“মেয়ের ধর্ষককে খুন করে পিতৃধর্ম পালন করেছেন বাবা, তাই আমি ভগবত নিশাদের পাশে আছি,” বললেন হিন্দু নেতা দেবদত্ত মাজি

আমাদের ভারত, ২১ জানুয়ারি:গরোক্ষপুরে নাবালিকা ধর্ষণে অভিযুক্ত দিলশাদ হোসেনকে আদালত চত্বরে নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে গুলি করে খুন করেছে নির্যাতিতার বাবা প্রাক্তন বিএসএফ কর্মী ভগবত নিশাদ। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু এই খুনকে খুন নয় বরং দুষ্টের দমন বা দুষ্টের বধ বলেই দাবি করেছেন সিংহবাহিনীর সভাপতি তথা বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি। তার কথায় মেয়ের অপরাধীকে সাজা দিয়েছেন বাবা, পিতৃধর্ম পালন‌ করেছেন তিনি। যে অপরাধী ধর্ষণের মতো অপরাধ করার পরেও আইনের ফাঁক দিয়ে জামিনে মুক্তি পায়, তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়েছে ভগবত। তাই এই বাবা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আগামী লড়াইয়ে সঙ্গী হবার কথা জানিয়েছেন দেবদত্ত মাজি।

নিজের পরিবারের থেকে অনেক দূরে গিয়ে অসীম কষ্ট সহ্য করে দিনের পর দিন সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশ পাহাড়া দেন বিএসএফ জওয়ানরা। আর বিনিময়ে শুধু তারা চান, তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের পরিবারে সুরক্ষিত থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই এমনটাই ভেবেছিলেন উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা প্রাক্তন বিএসএফ জওয়ান ভগবত নিশাদও। কিন্তু তেমনটা হয়নি তার সঙ্গে। তার নাবালিকা মেয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়। দিলশাদ হোসেন নামে এক বিহারের বাসিন্দা ভগবত নিশাদের নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে। দিলশাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পুলিশ দিলশাদকে হায়দ্রাবাদ থেকে গ্রেফতার করে। তাকে জেলে ঢোকানো হয়। পকসো আইনে মামলা হয় দিলশাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু গত দুমাস আগে দিলশাদ জামিনে মুক্তি পেয়ে বাইরে খোলা ঘুরতে থাকে। সম্ভবত মেয়ের উপর পৈশাচিক নির্যাতনকারীকে এভাবে বাইরে মুক্ত হয়ে ঘুরতে দেখে সহ্য করতে পারেনি বাবা। যে যন্ত্রণা তার মেয়ে পেয়েছে তার অপরাধীকে মুক্ত হয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখে বাধ্য হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিতৃধর্মকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা ঠিক করে ফেলন ভগবত নিশাদ। শুক্রবার মামলার প্রয়োজনে গোরক্ষপুর আদালতে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে আসে দিলশাদ। তখনই মেয়ের উপর হওয়া অপরাধের প্রতিশোধ নিতে দিলাশাদের মাথায় নিজের লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্দুক থেকে গুলি চালান প্রাক্তন বিএসএফ জওয়ান ভগবত নিশাদ। মুহূর্তের মধ্যে সেখানেই মৃত্যু হয় দিলশাদের।

দেবদত্ত বাবু প্রশ্ন তোলেন এটা কেমন আইনের ফাঁক, যে এক নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার মতো বড় গর্হিত কাজ করেও দিলশাদ জামিন পেয়ে যায়। তার আরও প্রশ্ন, সীমান্তে যে সেনা জওয়ান দেশের জন্য নিজের প্রাণ দিতেও দ্বিধা করে না, তার পরিবার যদি দেশের ভেতর সুরক্ষিত না থাকে তাহলে আম‌আদমির কী হবে?

দেবদত্ত মাজি বলেন, “আমাদের কর্তব্য ভগবত নিশাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। কারণ ভগবত তার পিতৃধর্ম পালন‌ করেছেন। তাঁর আহ্বান বৃহত্তর হিন্দু সমাজের উচিত আইনি লড়াইয়ে ভগবত নিশাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর।” দেবদত্ত মাজি জানান ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি ভগবত নিশাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ও যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেছেন। আগামী দিনে ভগবত নিশাদ ও তার পরিবারের সামনে যে বড় লড়াই অপেক্ষা করছে তাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন সিংহবাহিনীর সভাপতি।

https://www.facebook.com/538664548/posts/10159751324264549/?app=fbl

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *