বিধ্বংসী অগ্নিকান্ড! বালুরঘাটে পুড়ে ছাই জনস্বাস্থ্য কারিগরী কল্যাণ দপ্তরের অফিস, কারণ নিয়ে ধন্দে দমকল

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ আগস্ট: বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই জনস্বাস্থ্য কারিগরী কল্যান দপ্তর। ভেঙ্গে পড়লো ভবনের একাংশ। শুক্রবার বিকেলে বালুরঘাটের রঘুনাথপুর এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় হতাহতের তেমন কোনো খবর না থাকলেও গুরুতর জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন দমকল কর্মী। অফিসের ভেতরে থাকা বিষাক্ত কোনো গ্যাসের বিক্রিয়াতেই তাদের অসুস্থতা বলে দাবি করেছেন দমকল কর্মীরা।

এদিন বিকেলে প্রথমে বিকট শব্দ ও কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এলাকা। যা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় সরকারি ওই অফিসে। যে খবর পেয়েই তড়িঘড়ি এলাকায় পৌছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যায় বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে কিভাবে সরকারি ওই অফিসে আচমকা এমন আগুন লাগল তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন দমকল কর্মীরাও। যদিও ইলেকট্রিক জনিত সমস্যা থেকেই এমন আগুনের সুত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন জেলাশাসক।

জানা যায়, এদিন বিকেলে বালুরঘাট শহরের রঘুনাথপুর এলাকায় অবস্থিত পিএইচই অফিসটি আচমকাই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শুধু তাই নয়, দাউদাউ করে আগুন জ্বলবার পাশাপাশি বেশ কয়েকবার বিকট শব্দও শুনতে পান সরকারি ওই অফিসের কর্মীরা। হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে অফিস ভবনের একাংশ। আর এতেই আতঙ্কিত হয়ে কর্মীরা সকলেই অফিস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। যে খবর পেয়ে দমকলের চারটি ইঞ্জিন এলাকায় পৌছে প্রায় চার ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে ঘটনার পরেই এলাকায় পৌছে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেন বিদ্যুৎ কর্মীরা। দিনের আলোতে সরকারি অফিসে এমন বিধ্বংসী আগুনের খবর পেয়ে এলাকায় ভিড় জমান প্রচুর পথচলতি মানুষ। যাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষপর্যন্ত বালুরঘাট থানার আইসিকে মাইকিং করে লাঠিচার্জ করবার হুঁশিয়ারি দিতেও শোনা যায়। যদিও সরকারি ওই অফিসে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও স্পষ্ট করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। শুধু তাই নয়, আগুনের কারণ নিয়েও ধোঁয়াশায় রয়েছে দমকল ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী শম্ভু প্রামাণিক বলেন, বিকট আওয়াজ ও কালো ধোঁয়া দেখতে পেয়েই তারা ছুটে এসেছেন এলাকায়। সরকারি অফিস দাউদাউ করে জ্বলছে। দমকলের চারটি ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করবার চেষ্টা করছে। তবে কি কারণে এই আগুন তা নিয়ে সকলেই ধোঁয়াশায়।

পিএইচই অফিসের একজন কর্মী বলেন, বিকট শব্দে তারাও আতঙ্কিত হয়ে অফিসের বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিভাবে বা কোথা থেকে এই আগুন লাগলো তা নিয়ে তারাও ধোঁয়াশায়।

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, পিএইচই অফিসে আগুন লেগেছে। হতাহতের কোনো খবর নেই। সরকারি কর্মীদের সেভ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আশপাশে আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস রয়েছে। যেগুলোর কর্মীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই আগুনে কি কি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনো সুস্পষ্ট নয়। আগুন লাগার সঠিক কারণও স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ইলেকট্রিকের কোনো সমস্যা থেকেই এই আগ্নিকান্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *