সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি: দেউলঘাটা, পুরুলিয়া জেলার আড়শা ব্লকের কাঁসাই নদীর ধারে অবস্থিত। এখানেই রয়েছে দু হাজার বছরের প্রাচীন দেউল। তবে, প্রচার কম থাকায় পর্যটকের সংখ্যা এখানে খুব বেশি হয় না। এবার দেউলঘাটাকে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিল স্থানীয় যুবকরা। এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার চেষ্টা করল ‘দেউলঘাটা রাফ ফেসেস ‘ নামে সাংস্কৃতিক সংস্থা।

বড় একটি বাঁক নিয়ে বয়ে চলেছে কাঁসাই নদী। তার পাশেই দুহাজার বছরের ইতিহাসকে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুটি দেউল। যদিও অযত্নের কারণে প্রাচীন একটি দেউল পুরো ভেঙ্গে পড়েছে বহু আগে। জঙ্গলের মাঝে অতি মনোরম এই জায়গাটি দেউলঘাটা নামে পরিচিত। পুরুলিয়া জেলার আড়শা ব্লকের এই দেউলঘাটার মন্দিরের টেরাকোটার কাজ চমৎকৃত করার মতো। ধারনা করা হয় জৈন তীর্থঙ্করদের সময়ে নির্মিত হয়েছিল পোড়া ইটের এই মন্দিরগুলি। সুদুর অতীতে এখানে অনেকগুলি সুউচ্চ দেউল থাকলেও এখন টিকে রয়েছে মাত্র দুটি মন্দির। শিল্প শৈলীর নিদর্শন হিসাবে পুরুলিয়া জেলা পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমশ পাচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখন সারা বছরই অযোধ্যা পাহাড় দেখতে আসেন পর্যটকরা। অথচ এই পাহাড়ের প্রায় পাদদেশে থাকা দেউলঘাটা অন্তরালেই থেকে যায়। এবার এই এই প্রাচীন মন্দিরগুলিকে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিল স্থানীয় যুবকরা।

প্রাচীন মন্দিরের সঙ্গে আদিবাসী এবং লোক সংস্কৃতির মিশ্রন ঘটিয়ে আরও আকর্ষণীয় করা হল দেউলঘাটার পর্যটন। স্থানীয় বাসিন্দা ও লোক শিল্পী সিদ্ধার্থ রায় ভাণ্ডারী এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই স্থানটি সংস্কারের মধ্য দিয়ে পর্যটন শিল্পের তকমা পাক। তার জন্য আজকের এই উদ্যোগ।”

অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সেই সঙ্গে ছৌ, ঝুমুরের আস্বাদ। স্থানীয় যুবকরা এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটাতেই দেউলঘাটা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠল আরও আকর্ষণীয়। প্রাচীন মন্দির প্রাঙ্গনে পুরুলিয়ার সংস্কৃতির এই সংযোগ আগামী দিনে মানুষকে যেমন টেনে নিয়ে আসবে তেমনই স্থানীয় ছৌ ঝুমুর শিল্পীদের কাজের সুযোগও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন কলকাতা থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নাট্য ও সংস্কৃতি জগতের ব্যক্তিত্বরা।

