পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২১ সেপ্টেম্বর: সোমবার রাত থেকে একটানা প্রবল বর্ষণের জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার সবং, পিংলা, ডেবরা, নারায়ণগড়, দাঁতন, মেদিনীপুর সদর, শালবনি, খড়্গপুর গ্রামীণ, ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা ব্লকের ৬ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির জেরে জেলায় মাটির বাড়ি ভেঙ্গেছে ৮২৬৭৫ টি। ৫২৯ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৫ হাজার মানুষ। বন্যা কবলিত এলকায় যাতায়াতের জন্য ৭০ টি সরকারি নৌকা নামানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ত্রিপল বিলি করা হয়েছে। আরও পাঠানো হচ্ছে। 

সবথেকে খারাপ অবস্থা সবংয়ের। কেলেঘাই, কপালেশ্বরী, চন্ডিয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গেছিল গত সপ্তাহে। বৃষ্টি না থামায় সেই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করতে পারছে না সেচ দপ্তর। এর ওপর একনাগাড়ে বৃষ্টিতে নদীর জল আরও ফুলে ফেঁপে গ্রামগুলিতে ঢুকছে।

মঙ্গলবার মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অমল পান্ডা, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হাজরা বিবি, কর্মাধক্ষ্য আবু কালাম বক্সকে নিয়ে বন্যা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজরা। তারা বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিলি করেন। ফিরে এসে বিডিও অফিসে বৈঠক করেন। রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা জানান, গত ১২ বছরে এরকম অবস্থা হয়নি। সবংয়ের পরিস্থিতি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন। এছাড়াও একটানা বৃষ্টির ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে জল বইছে। শালবনি ব্লকের গড়মাল থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার পিচ রাস্তার উপর দিয়ে জল বইছে। যার ফলে গড়মালের সাথে মেদিনীপুর শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চরম সমস্যায় পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। একটানা বৃষ্টির ফলে সবজি ও ধান চাষের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *