আদালতের নির্দেশ সত্বেও ১১ বছর পরেও পেনশন মিলল না সুখচরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর,৩ মে:
২৮ বছর ধরে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিষ্ঠার সাথে পড়িয়েও অবসর নেওয়ার পর নিজের প্রাপ্য বেতন ও পেনশন না পেয়ে চরম দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন পানিহাটির শিক্ষক মানস কুমার সেনগুপ্ত। বর্তমানে আদালত ও সরকারি দফতরের চক্কর কেটে ক্লান্ত এই বৃদ্ধ শিক্ষক এখন চাইছেন স্বেচ্ছা মৃত্যু।

শিক্ষক মানস কুমার সেনগুপ্ত সোদপুর নবারুণ পল্লী শিবতলা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন ১৯৮৩ সালে। ২০১১ সালে তিনি অবসর নেন কিন্তু তার অবসরের পর কোনওরকম পেনশন বা কোনও প্রাপ্য টাকা সরকারের তরফ থেকে তিনি পাননি। তার প্রাপ্য টাকার জন্য তিনি একাধিকবার ডি আই অফিস, নিজস্ব স্কুলে ঘুরে বেড়িয়েছেন কিন্তু কোনওরকম সুরাহা হয়নি।

শেষমেষ তিনি কোর্টের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘদিন আইনি লড়াইয়ের পর কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৪ সালে সমস্ত প্রাপ্য টাকা তাকে মিটিয়ে দিতে বলে মহামান্য আদালত। কিন্তু মহামান্য আদালতের কথা অমান্য করে আজ পর্যন্ত তাকে কোনও রকম ভাবে তাঁর প্রাপ্য দেওয়া হয়নি।

সোদপুরে সুখচরের লন্ড্রি মোড়ে একটি ছোট্ট ঘর নিয়ে তিনি ও তার মেয়ে ভাড়া থাকেন। বর্তমানে মানসবাবু ও তার মেয়ে প্রাইভেট টিউশনি করিয়ে দিন গুজরান করছেন। তাদের কথায় দীর্ঘ আইনি লড়াই লড়তে লড়তে তারা আরো সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। তাদের অভিযোগ, আদালত তাদের এতো দিনের সমস্ত বাকেয় বেতন ও পেনশন সরকারকে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেই টাকা তারা পাননি। যার জেরে তাদের আর্থিক অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মানসবাবুর মেয়ে বলেন, “আমি সেই ছোট থেকে বাবার এই বেতন ও পেনশন নিয়ে সমস্যা দেখে এসেছি। অনেক টাকা ব্যয় করে অনেক উকিল ধরে বাবার পেনশনের কেস জিতেছি। কিন্তু আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এক টাকাও পাইনি আমরা। টাকার জন্য আমরা বারবার ডিআই অফিসে দরবার করেছি কিন্তু ২০১৪ থেকে এখনো কোনও টাকা মেলেনি। এমন কি বিকাশ ভবন থেকে কাগজ তৈরী হয়ে গেছে তবুও মিলছে না অর্থ।”

ওপর দিকে বৃদ্ধ এই শিক্ষক মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরেছেন। মানসবাবু আক্ষেপের সুরে বললেন, “অনেক চেষ্টা করলাম, আদালতের রায় আমার পক্ষে হওয়া সত্ত্বেও আমি আমার প্রাপ্য পেলাম না। এবার আর পারছি না। চরম আর্থিক কষ্ট ভোগ করেছি। আমার প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীরা আমায় আর্থিক সাহায্য করেছে কিন্তু আর কত হাত
পাতবো। এবার বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যু দাবী করছি আমি।”

শিক্ষকরা আমাদের শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে দেন সেখানে এক শিক্ষকের এই করুন অবস্থা রাজ্য সরকারের গাফিলতিকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *