নিজস্ব প্রতিনিধ, আমাদের ভারত, ২৫ ফেব্রুয়ারি: শাসকদলের প্রার্থী হয়েও ভোটারদের সমালোচনার মুখে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী। ভোটারদের মুখে শুনতে হচ্ছে তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্থ।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী মৌসুমি চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি থেকে আমফানের টাকা দুর্নীতি ও এক কিশোরীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা সহ একাধিক অভিযোগ করেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী ঝুমা ভট্টাচার্য। ঝুমা ভট্টাচার্য বলেন, আমফানের টাকা নিজের দলের কর্মীদের বেছে বেছে এবং আত্মীয়দের মধ্যে বিলি করেছেন। এছাড়া এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে এসে সন্ত্রাস সৃষ্টি করাই তাঁর এক মাত্র কাজ। সম্প্রতি বনগাঁর দীনবন্ধুনগর এলাকায় এক কিশোরীর বাড়ি গিয়ে হামলা চালায় মৌসুমি ও তাঁর দলবল। লজ্জায় ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই কিশোরী। তাঁর পরেও রেহাই পায়নি ওই কিশোরী। দেহ নামিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। সেই সময় বনগাঁর চেয়ারম্যান শংকর আঢ্যের হস্তক্ষেপে পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায় মৌসুমি। গত পাঁচ বছর ধরে এলাকার ত্রাস ছিল মৌসুমি।

ছবি: বিজেপি প্রার্থী ঝুমা ভট্টাচার্য।
তৃণমূল সূত্রের খবর, ২০১৫ সালে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ধরে বনগাঁর প্রার্থী হয় মৌসুমি চক্রবর্তী। তাঁকে জেতানোর জন্য বনগাঁর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যের নেতৃত্বে ভোট লুট করে তাঁকে জেতানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে ছিলেন শঙ্কর আঢ্য নিজেই। প্রকাশ্যে সত্যি কথা তুলে ধরায় এখন দল তাঁকে কোনঠাসা করেছে। এলাকার বাসিন্দা, নমিতা, সন্ধ্যা, দীপালিরা বলেন, মৌসুমির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই রাতে সেই বাড়িতে হামলা চালাতো। এছাড়া লকডাউনে বিজেপির খাদ্য সামগ্রী লুট করে নিজেই আত্মসাৎ করেছে। শুধু তাই নয়, অসহায় মানুষরা ট্রেন লাইনের পাশে ঘর করতে চাইলে তাঁকে টাকা দিতে হয়। এছাড়া কেউ যদি ওই এলাকায় বাড়ি কেনে বা বিক্রি করে তাতেও টাকা দিতে হয় মৌসুমিকে। এতো সবের মধ্যে শাসক দলের হলেও চাপের মুখে রয়েছে মৌসুমি।

