আমাদের ভারত, ৬ নভেম্বর: এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে বলেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি। এবার আবার রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরির বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে নিশানা করে অখিল গিরি মন্তব্য করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে এমনটাই দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার সাংবিধানিক প্রধানকে অখিল গিরির বিরুদ্ধে চিঠিও লিখেছেন বিরোধী দলনেতা।
রাজ্যপালের কাছে শুভেন্দুর দাবি, এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য অখিল গিরির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিষ্কার করার দাবি তুলেছেন। শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডেলে যে ভিডিও পোস্ট করেছেন তাতে তৃণমূলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চ থেকে অখিল গিরিরকে বলতে শোনা যাচ্ছে, অতো হম্বিতম্বি কিসের? আমরা পারি না নাকি? আমরা পারি না? তোমার কলার ধরে তোমাকে দশ মিনিটের মধ্যে জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারি আমরা। আমরা পারি, আমাদের কাছে যা কাগজ আছে, নবান্নতে যে কাগজ আছে আমরা দেখেছি।আমাদের হাতেও কাগজপত্র আছে।” এক্ষেত্রে নাম করলেও তার ইঙ্গিত যে শুভেন্দু অধিকারী সেটা বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু তারপরেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী বলতে শুরু করেন, “সেই জন্যই তো ১০ তারিখে আনন্দ বোস….. আমরা কি আনন্দ বোস রাজ্যপালের ব্যাপারটা জানি না নাকি? কেন কুনাল ঘোষের পুজোর উদ্বোধন করতে গেছো? আমরা জানি না নাকি? ” তাকে আরো বলতে শোনা যায় হোয়াটসঅ্যাপে কি আছে তোমার? তুমি কেন দশ তারিখে মুখ্যমন্ত্রীকে আলোচনার জন্য ডেকেছো? ১০০ দিনের কাজের কথা বলতে? আমরা জানি না? হোয়াটসঅ্যাপে কী আছে? তোমার কলঙ্ক আমরা ধরবো, ছাড় পাবে না। আমাদেরও আইবি আছে পশ্চিমবঙ্গের।আমাদের ফাইল রেডি।”
যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের ভারত। তবে অখিল গিরির এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপাল বোসকে চিঠি পাঠিয়ে অখিলকে মন্ত্রীসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। চিঠিতে শুভেন্দু লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের নামে কথা বলা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে অখিল গিরির। এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রসঙ্গে অখিল গিরির মন্তব্যের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য শুধু রাজ্যপাল বোসের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে আঘাত করেনি, রাজভবন ও রাজ্যপালের চেয়ারের পবিত্রতাও ক্ষুন্ন করেছে।

