সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩১মার্চ: কারখানায় বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের উপযুক্ত চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ ও-নিরাপত্তা সহ একগুচ্ছ দাবিতে আজ কারখানা কর্তৃপক্ষকে ডেপুটেশন দিল সিআইটিইউ, সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই ও ক্ষেত মজুর সংগঠন।
বুধবার বিকেলে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির চৌশাল মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি ক্ষুদ্র ইস্পাত কারখানার চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে গলিত লোহায় ৪ জন শ্রমিক গুরুতরভাবে জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার রঘুনাথ মন্ডল (৫১) নামে এক শ্রমিক মারা যান।

গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের বাড়ি বড়জোড়া থানার তেঁতুলপোয়া গ্রামে।কারখানার শ্রমিকরা বিস্ফোরণ কান্ডের পর শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। শুক্রবার সিপিআইএম ও দলের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই, সিআইটিইউ, মহিলা ও ক্ষেতমজুর সংগঠন মিলিতভাবে মৃতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, কারখানায় শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষার সব রকম ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন দেয়। দলের প্রবীন নেতা মানিক ঢাং, লক্ষ্মণ মন্ডল, মহিলা নেত্রী লতিকা মাজি, কৃষক নেতা মানব মন্ডল ডেপুটেশনে নেতৃত্ব দান করেন।
সিটু নেতা অচিন্ত্য দাস বলেন, বুধবার বিস্ফোরণের ফলে কারখানার ভিতরে থাকা ট্রান্সফর্মারেও বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে। চারদিকে কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। বিস্ফোরণে কর্মরত যে ৪ জন শ্রমিক জখম হন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা কোনও গাড়ি পর্যন্ত ছিল না। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে জখম ৪ জনকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মানিক ঢাং দাবি করেন, জখম ব্যক্তিদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা সহ কর্ম ক্ষমতা ফিরে না আসা পর্যন্ত মাসিক বেতন পরিবারের হাতে দিতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকেল ৩টে নাগাদ গঙ্গাজলঘাঁটির চৌশাল মোড়ের কাছে জিপিটি নামক কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর থেকে কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং সিকিউরিটি গার্ড ছাড়া কর্তৃপক্ষের ঢোকার কোনও আধিকারিক নেই। বিক্ষোভকারীরা সিকিউরিটি গার্ডের হাতেই স্মারকলিপিটি জমা দেন।

