আমাদের ভারত, ২৭ জুলাই: রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ দিকে এগোচ্ছে। রোজ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর আসছে। একাধিক মৃত্যুর ঘটনার খবরও এসেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য সচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী ডেঙ্গি নিয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে আজ বৈঠক করেন।
বৈঠকে যে সমস্ত জায়গায় ডেঙ্গি অতিরিক্ত হারে বাড়ছে সেখানে সব রকম পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সব জেলার মধ্যে নদীয়ার ডেঙ্গি পরিস্থিতি বিশেষ
উদ্বেগজনক বলে জানাগেছে। পরীক্ষা থেকে শুরু করে হাসপাতালে বেডের ব্যবস্থায় যেনো কোনো খামতি না থাকে সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গি কেন বাড়ছে তা নিয়ে পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য সচিব।
এলাকার সমস্ত জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকছে কিনা সেদিকে নজর রাখার কথা বলা হয়েছে। এলাকাবাসীদের সচেতন করতে মশারি টাঙিয়ে শোওয়ার কথা ও জল জমতে না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নদিয়া ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ডেঙ্গির প্রকোপ দ্রুত হারে বাড়ছে।শহরের মধ্যে ডেঙ্গি বেড়েছে হাওড়া, দুর্গাপুর, চন্দননগর, বিধান নগর, পানিহাটি, শ্রীরামপুর, দক্ষিণ দমদম, চুঁচুড়া, কামারহাটি, রিষড়া সহ একাধিক শহরে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে ডেঙ্গি সপ্তাহ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ডেঙ্গি নিয়ে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কি কি করা উচিত আর কি কি করা উচিত নয় তা বোঝাতে জনপ্রতিনিধিদের নামতে বলা হয়েছে।
২০২২ সালে প্রায় মহামারীর আকার নিয়েছিল ডেঙ্গি। ৭ লক্ষ ৮৯ হাজার ৫৮০ জনের টেস্ট হয়েছিল, ধরা পড়েছিল ৬৭ হাজার ২৭১ জনের। পজিটিভিটি দেখা গিয়েছিল ৮.৬ শতাংশ। মারা গিয়েছিল ৩০ জন। চলতি বছরের পরিসংখ্যানে জুলাই মাস পর্যন্ত ডেঙ্গি টেস্ট করা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৮৬ জনের। যার মধ্যে পজিটিভ এসেছে ৩ হাজার ৩৬৯ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে নদিয়ায়। শেষ সপ্তাহেই ৬৭৫ জন রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে নদিয়ার আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৩ জন। মৃত্যু হয়েছে সাত জনের।

