বাগদায় ‘দিদির দূত’ গ্রামে ঢুকতেই গাড়ি আটকে বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৬ জানুয়ারি: দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে গিয়ে দিকে দিকে বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কর্মসূচিতে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ অব্যাহত। রাজ্যের মন্ত্রী, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং দলের সাংসদের পর এবার একই পরিস্থিতিতে পড়তে হল উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিত দাসকে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘর পাইনি, রাস্তা খারাপ, একশো দিনের কাজ নিয়ে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি। দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের জেরে দিদির দূতের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ।

সোমবার বাগদার আষাড়ু গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁশঘাটা গ্রামে ‘দিদির দূত’ হিসাবে যান বাগদার বিধায়ক ওরফে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিত দাস। গ্রামে ঢুকতেই তার গাড়ি আটকে গ্রামবাসীদের দাবি, প্রকৃত গরিব হওয়া সত্ত্বেও এলাকার মানুষ আবাস যোজনার বাড়ি পাননি। এ ছাড়াও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্নার মান খারাপ, বেহাল রাস্তাঘাট, জলকষ্ট সহ একশো দিনের কাজ নিয়েও অনেকে অভিযোগ করেন। এক গ্রামবাসীর কথায়, “ভোটের পর থেকে আর এলাকায় দেখা যায়নি বিধায়ককে। একাধিক বার গ্রামের সমস্যার কথা জানালেও সুরাহা হয়নি।”

অঞ্জনা মণ্ডল নামে এক বাসিন্দার কটাক্ষ, “শুধু ব্যানার আর পোস্টারেই দেখা যায় বিধায়ককে!” এই প্রথমবার গ্রামে এলেন বিধায়ক।

এই ঘটনায় শাসক দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। বিজেপির বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, দিদির সুরক্ষা কবচের পরিবর্তে এখন তৃণমূল নেতাদের রক্ষাকবচ প্রয়োজন। বিশেষ করে বাগদার বিধায়কের আগে কবচ নেওয়ার দারকার। কারণ বাগদার মানুষের সঙ্গে যদি কেউ বেইমানি করে থাকে তাহলে তিনিও একজন। এটা তো নতুন নয়। প্রতি দিনই এই দৃশ্য দেখবেন।

বিশ্বজিৎ দাস অবশ্য গাড়ি আটকানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কোনও ঝামেলা বা অশান্তি হয়নি। গ্রামে গেলে এলাকার বাসিন্দারা জড়ো হন। নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানান। মানুষ তো নিজেদের সমস্যার কথা বলবেন। ওখানে কোনও বিক্ষোভ হয়নি। কিছু অভাব অভিযোগ আছে সেগুলো খুব দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *