সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১১ ডিসেম্বর: বাকুড়া পৌর এলাকার নতুনচটি’তে শিক্ষক ও তার পুত্র হত্যায় প্রকারন্তরে পৌরসভাকে দায়ী করে আজ পৌরসভায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিজেপি মহিলা মোর্চা।আজ সকালে মহিলা মোর্চার রাজ্য নেত্রী মিতা চ্যটার্জির নেতৃত্বে শতাধিক মহিলা মিছিল করে পৌরসভায় বিক্ষোভ দেখায় ।মিতাদেবী বলেন, শিক্ষক মহাশয়ের জমি দখল করে অভিযুক্ত পিন্টু রুইদাস আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির ছাড়পত্র পেল কীভাবে? পৌরসভা যদি এভাবে ছাড়পত্র না দিত তা হলে এভাবে শিক্ষক মহাশয় ও তার পুত্রের মৃত্যু ঘটতো না।কাজেই এই হত্যা কাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না পৌরসভা।
শিক্ষক ও তার পুত্র হত্যায় প্রকারন্তরে পৌরসভাকে দায়ী করা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে পৌরপ্রধান অলকাসেন মজুমদার বলেন, পৌরসভা দায়ী হলো কীভাবে? বলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আবাস যোজনায় পৌর এলাকার বহু গরিব মানুষ আবেদন করে। পৌরসভা বেনিফিসিয়ারিদের নিয়ে বৈঠক করে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব কাজ করা হয়। আবেদন মঞ্জুর হলে আবেদনকারীকে পঁচিশ হাজার টাকা তার নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করতে বলা হয়। তারপর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা সরেজমিনে দেখে আসার পর দফায় দফায় টাকা দেওয়া হয়। বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করলেই কিন্তু টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষক হত্যার আসামি পিন্টু রুইদাস মাটির, টালির বাড়িতে বসবাস করতো। আবাস যোজনায়
সেও আবেদন করে, আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর নিয়মমতো পঁচিশ হাজার টাকা জমাও করে।
প্রথয় দফায় টাকা পাওয়ার পর মেঝে লেবেল পর্যন্ত কাজ হওয়ার পর ইঞ্জিনিয়ার সরেজমিনে গিয়ে দেখেন নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে।তারপর টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সে নিজ টাকায় বাড়ি বানিয়ে নেয়। এরপর আদালতে বিষয়টি যায়। আমরা ওই বাড়ি বেআইনি ভাবে হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়ে দিই। তারপর আদালতের নির্দেশ আসে বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়ার। সেই নির্দেশ ও তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পৌরসভার ভুল কোথায়? আর দোষই বা কেন দেওয়া হচ্ছে? তিনি বিক্ষোভকারী বিজেপি নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলা আবাস যোজনায় বহু গরির মানুষের ঘর আটকে রয়েছে, কেন্দ্র টাকা দেয়নি বলে। সেই গরিব মানুষদের জন্য ওরা কিছু বলছে না কেন?

