সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ এপ্রিল: আজ সকালে বাঁকুড়ার মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের তারাপুর স্কুল মোড়ে পথ দুর্ঘটনায় এক কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর বাঁকুড়া- রানীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, এর ফলে বিপাকে পড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শ্রীনাথ শীল (১৫)। বাড়ি স্থানীয় শ্রীনগর কলোনিতে। তাকে নীলবাতি লাগানো একটি গাড়ি ধাক্কা মারলে গুরুতর জখম হয় শ্রীনাথ। প্রথমে তাকে মেজিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে গাড়ির চালক পলাতক।
গাড়িটিতে থাকা এক ব্যক্তি ছাড়াও আরো দু’জন পথচারী সহ মোট ৩ জন জখম হয়েছেন। তাদের সকলকেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর জেলার শিল্পশহর মেজিয়ার তারাপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনাথ শীল সোমবার সকালে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর সাইকেলে মেজিয়ার শ্রীনগর কলোনির বাড়ি থেকে তারাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি নীলবাতি লাগানো চারচাকা ওই গাড়িটি সজোরে তাকে ধাক্কা মারে। শ্রীনাথকে ধাক্কা মেরে পর পর আরো দুই পথচারীকেও ধাক্কা মারে গাড়িটি। তারপর একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে গিয়ে ধাক্কা মারলে গাড়িটি থেমে যায়। স্থানীয় মানুষ তাদের সকলকে মেজিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। শিল্পাঞ্চলে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু ট্রাফিক ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাই তারা অবরোধ থেকে সরতে চাননি। অবরোধের জেরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। মেজিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেয়।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো হয়।মপ্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এর একটা বিহিত দরকার। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন।

