বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পাঁশকুড়ায় প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ ও স্টেশন ম্যানেজারের দপ্তর ঘেরাও

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের নির্দেশে ২০২৩-২৪ সালের ট্যারিফ অনুযায়ী সম্প্রতি গৃহস্থ, বাণিজ্যিক, কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্পের গ্রাহকদের ফিক্সড চার্জ দ্বিগুণ, মিনিমাম চার্জ তিনগুণ ও ডিস-কানেকশন, রি- কানেকসান চার্জ এক ধাক্কায় ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। ফলস্বরূপ সর্বস্তরের গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও স্মার্ট প্রিপেইড মিটার চালুর চক্রান্ত প্রতিরোধে আজ দুপুরে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সংগঠন অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাবেকা)’র পাঁশকুড়ার জোনাল কমিটির আহ্বানে পাঁশকুড়া-তমলুক সড়কে প্রতাপপুর কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের সামনে চার্জ বৃদ্ধির প্রতিলিপি পোড়ানো হয়। বিদ্যুৎ দপ্তরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের স্টেশন ম্যানেজারের অফিস দেড় ঘন্টা ঘেরাও করে বিক্ষোভে দেখান গ্রাহকরা। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির নেতা নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, পাঁশকুড়া জোনাল কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অসিত মান্না, নিলয় খালুয়া প্রমুখ। চার্জবৃদ্ধির প্রতিলিপিতে অগ্নিসংযোগ করেন কমিটির অপর যুগ্ম সম্পাদক সুধীর মাইতি। প্রায় দেড় ঘন্টা ঘেরাও বিক্ষোভের পর স্টেশন ম্যানেজার ডেপুটেশনের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। উনি দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আশ্বাস দেন।

সংগঠনের জেলা নেতৃত্ব নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, গৃহস্থ গ্রাহকদের মিনিমাম চার্জ আগে ছিল ২৮ টাকা প্রতি কে.ভি.এ। যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ টাকা প্রতি কে.ভি.এ। একইভাবে ক্ষুদ্র শিল্পের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পূর্বে ছিল ০ টাকা, যা হয়েছে ২০০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগে ছিল ৪০ টাকা, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকা। গ্রাহক স্বার্থবিরোধী এই নীতির বিরুদ্ধে ২৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ ভবন অভিযানে সর্বস্তরের গ্রাহকদের সামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে ওই একই দাবিতে আজ সিদ্ধা প্রাইমারি স্কুলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কার্তিক হাজরা। বক্তৃতা দেন নারায়ণ চন্দ্র নায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *