প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ২৪ এপ্রিল: উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি বিজয়নগর এলাকায় রাতভর চলা বোমাবাজি, বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙ্গচু ও মারধরের ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করার ঘটনায় ফের উত্তেজনা ছড়াল। বোমাবাজির ঘটনায় নৈহাটি থানার পুলিশ ১৪ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারের ঘটনার প্রতিবাদে সাংসদ অর্জুন সিং ও নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ফাল্গুনী পাত্র কয়েকশো কর্মী সমর্থক নিয়ে থানায় বিক্ষোভ দেখালেন। গ্রেপ্তার হওয়া বিজেপি কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
শুক্রবার গভীর রাতে নৈহাটি বিজয় নগর এলাকার অভিযাত্রী ক্লাবের কাছে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। এলাকাবাসী জানায়, রাত ১২ টার পর হঠাৎ করেই একায় বোমা পড়তে থাকে। অন্তত ২০টি বোমা ফেটেছে বলে তাদের অনুমান। বোমা ফাটানোর পাশাপাশি বেছে বেছে বেশ কিছু বিজেপি নেতা এবং কর্মীর বাড়ি চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙ্গচুর চালাতে থাকে ও বাড়ির লোকজনকে মারধর করতে থাকে। এই ঘটনায় বিজেপির প্রায় ১০ জন কর্মী কম বেশি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা এই গোটা ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ এতটাই আতঙ্কিত যে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন। যদিও এই ঘটনায় পুলিশ ১৪ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
বিজেপির অভিযোগ, এই ঘটনায় বেছে বেছে নির্দোষ বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই তাদের ছেড়ে দিতে হবে। সাংসদ অর্জুন সিং এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাতের বোমা বাজির ঘটনা সম্পূর্ণভাবে পূর্ব পরিকল্পিত, পুলিশ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের নিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আর এখন উল্টে বিজেপির কর্মীদেরই ধরে নিয়ে গেছে। তাদের বিনাদোষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এই নৈহাটি থানার বড়বাবুর অপসারন চাই। এই থানার বড়বাবুর নির্দেশেই কাল রাতে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে।”
তবে এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিজেপি যত গণ্ডগোল করেছে, ওরাই প্রথম আমাদের কর্মীদের মারধর করেছে, বোমাবাজি করেছে। ওরাই গণ্ডগোল করেছে আর সাধারন মানুষ বিরক্ত হয়ে লাঠি, ঝাঁটা যা পেরেছে তা দিয়ে বিজেপির দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তাই এই ঘটনা ঘটেছে।”

