পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৬ অক্টোবর: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ও শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক এলাকার জমা দূষিত জল দ্রুত বের করা সহ আগামী বর্ষার আগে সোয়াদিঘি ও দেহাটি খাল পূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির কোলাঘাট ব্লক শাখা আজ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচিতে সামিল হন। ডেপুটেশনে প্রায় দুই শতাধিক মহিলা সহ জলবন্দি এলাকার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়মোহন পাল, সোয়াদিঘি খাল সংস্কার সমিতির সম্পাদক মধুসূদন বেরা, সহঃ সম্পাদক প্রশান্ত সামন্ত প্রমুখ। বিক্ষোভকারীরা কোলাঘাটের বিবেকানন্দ মোড় থেকে মিছিল করে
বিডিও অফিসে সভা করেন। এবং আট দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করা হয়। ডেপুটেশন গ্রহণ করেন বিডিও অর্ঘ ঘোষ।
এইসব দাবিতে গত ১২ অক্টোবর ৪১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের পরেও সেচ দপ্তর অর্থের সংকটের কারণে এখনই কিছু কাজ করতে পারছে না, এই অভিযোগে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে নারায়ণ চন্দ্র নায়ক মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, তমলুক মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ নিকাশী খাল হলো-সোয়াদিঘি ও দেহাটি খাল। ২২ কিমি দীর্ঘ সোয়াদিঘি খালটি কোলাঘাট ব্লকের নারায়ণ পাকুড়িয়া থেকে বেরিয়ে ভোগপুর ও দেড়িয়াচক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা হয়ে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সোয়াদিঘিতে পড়েছে। খালটি দিয়ে প্রায় শতাধিক মৌজার নিকাশী জল রূপনারায়ণে বের হয়। খালটি যেখানে রূপনারায়ণে পড়েছে, বছর কয়েক আগে সেখানে নদীর ভেতরে বেআইনী মাছের ঝিল তৈরী হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দীর্ঘদিন পূর্ণ সংস্কার না হওয়ায় সাম্প্রতিক নিম্নচাপজনিত বর্ষণে পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার সহ কোলাঘাট ব্লকের দেড়িয়াচক, ভোগপুর, সাগরবাড় এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা আজো জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ১৯ কিমি দীর্ঘ দেহাটি খাল দিয়ে কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া ব্লকের প্রায় শতাধিক মৌজার বিস্তীর্ণ অংশের জল নিকাশী হয় রূপনারায়ণের কোলাঘাটে। এই খালটিও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মজে যাওয়ায় এই বিপত্তি বলে জানাগেছে।
ফলস্বরূপ এলাকার রাস্তা সহ আমনধান, ফুল, পানবরোজ, সবজি, মাছচাষ ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে ওই জমা জল দূষিত হয়ে গ্রামগুলিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও সাপের উপদ্রব বাড়ছে।

