কোলাঘাটে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর প্রাণ যাওয়ায় যুক্ত সকল দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৫ ডিসেম্বর: স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমীর পড়িয়া খুনের সঙ্গে যুক্ত এক দুষ্কৃতী ছাড়া অন্য খুনীদের ঘটনার ১৫ দিন পরেও পুলিশ ধরতে পারেনি। অবিলম্বে ওই নৃশংস খুনের ঘটনার সাথে যুক্ত সমস্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার, অস্থায়ী পুলিশ পিকেট বসানো, পরিবারের লোকজন সহ এলাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত ৬ দফা দাবিতে আজ বিকেলে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে ‘নাগরিক সুরক্ষা কমিটি’ ব্যানারে সামিল হন সমীরের বাবা সুকুমার, স্ত্রী কৃষ্ণা, ছেলে অঙ্কিত, মেয়ে অনুস্মিতা, ভাই সুভেন্দু, কাকা তপন এবং প্রায় তিন শতাধিক মহিলা সহ সর্বস্তরের মানুষজন।

কোলাঘাটের বিবেকানন্দ মোড় থেকে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে বিডিও অফিসের গেটে বিক্ষোভ দেখায় ও সভা করে। সভায় বক্তব্য রাখেন কমিটির মুখপাত্র নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, যুগ্ম সম্পাদক যুগল মান্না, সহঃ সভাপতি মধুসূদন বেরা প্রমুখ। স্মারকলিপি পাঠ করেন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুভাশীষ মন্ডল। পরে তারা বিডিও’কে একটি স্মারকলিপিও দেন। ডেপুটেশনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি প্রতাপ সামন্ত, মুখপাত্র নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, মৃত সমীরের বাবা সুকুমার পড়িয়া, স্ত্রী কৃষ্ণা পড়িয়া প্রমুখ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উপরোক্ত দাবিতে এলাকার নাগরিক সমাজের উদ্যোগে গত ২৯ নভেম্বর, বরদাবাড় প্রাইমারি স্কুলে এক নাগরিক কনভেনশনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে “নাগরিক সুরক্ষা কমিটি”। কমিটি ওই দিন মোমবাতি মিছিলও করে। ডেপুটেশন শেষে বিক্ষোভ সভায় নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করে বলেন, নৃশংস ওই খুনের সাত দিনের মাথায় পুলিশ হাওড়ার শ্যামপুরের বাসিন্দা সেখ ঈশা হক নামে এক খুনিকে মহিষাদল থেকে গ্রেফতার করলেও ঘটনার ১৫ দিন পরেও বাকিরা এখনো অধরা। আমরা আরো ৭ দিন অপেক্ষা করবো। তার মধ্যে অন্য দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হব। পাশাপাশি ওই দাবি সহ জিঞাদা, দেউলবাড়, পদমপুর, জেলেপাড়া, বরদাবাড়ে হাইমাস্ট লাইট ও বাকি অংশে স্ট্রিট লাইট সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো, দেউলবাড় সবিতা রাইস মিল সংলগ্ন স্থানে বাসের স্টপেজ দেওয়া, মেচগ্রাম থেকে কোলাঘাট পর্যন্ত এলাকায় সমস্ত ধরনের চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো সহ বর্তমানে অস্থায়ী পুলিশ পিকেট বসিয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তার বন্দোবস্ত, মদ, জুয়া, সাট্টা, লটারি সহ সমস্ত বেআইনি কারবার বন্ধ প্রভৃতি দাবিতে নাগরিকদের আন্দোলন চলবে বলে নারায়ণবাবু জানান।

অন্যদিকে মৃত সমীরের বাবা সুকুমার পড়িয়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, পুলিশের উপর আস্থা রেখেছি। আরও সাত দিন দেখব। তারপর প্রয়োজনে অন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *