পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৮ আগস্ট: দেশের জন্য জীবন বলিদানের পরেও শহিদের তকমা পায়নি বালুরঘাটের সীমান্ত গ্রামের আদিবাসী ছেলে চুড়কা মুর্মু। দুঃস্থ পরিবারটিতে আজও মেলেনি কোনও সরকারি সহায়তা। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর শহিদ চুড়কা মুর্মুর আত্ম বলিদানের কথা মনে রেখে আজও এই দিনটি একটি বিশেষ দিন হিসাবেই পালিত হয় বালুরঘাটে। মঙ্গলবার চুড়কা মুর্মু স্মৃতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চকরাম গ্রামে এনিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। যেখানেই চুড়কার শহিদ বেদীতে মাল্যদান করেন সাংসদ সহ বিশিষ্টজনেরা। একই সাথে চকরাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুড়কা মুর্মুর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধের সময় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের চকদুর্গা গ্রামে পাকিস্তানী খান সেনারা গোলাবর্ষণ শুরু করে। সেই সময় ভয়ে পাড়ার লোকেরা গ্রাম ছেড়ে পালাতে থাকলেও চকরাম প্রসাদ গ্রামের চুড়কা মর্মুকে এক অন্য ভুমিকায় দেখা গিয়েছিল। গ্রামের আর দু চারজনের মতো ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে দেশের জন্য বিএসএফ জওয়ানদের সাহায্য করতে এগিয়ে যায় আদিবাসী ওই যুবক। খান সেনাদের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে বিএসএফদের গুলির বাক্স মাথায় করে একটি পুকুর পাড়ে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিল সে। সেই সময় চকদুর্গা গ্রামের বড় পুকুর পাড়ে পা পিছলে পড়ে যায় চুড়কা। আর তার পরেই পাকিস্তানী খান সেনাদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় বীর চুড়কা। জেলা তথা দেশের গর্ব বীর শহিদ চুড়কা মুর্মুর সেদিনের সেই সাহসী বীরকে সন্মান জানাতে এদিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চুড়কা মুর্মু স্মৃতি রক্ষা কমিটি। প্রতিবছর এই দিনটিকে একটি বিশেষ ভাবে পালন করা হলেও সরকারি ভাবে আজও শহিদের তকমা পাননি চুড়কা ও তার পরিবার।

চুড়কার পরিবারের দুই সদস্য রামধান সোরেন ও পরেশ মুর্মুরা জানিয়েছেন, দেশের জন্য তাদের ছেলে আত্ম বলিদান দিয়েছে। তবে এখনো সরকারিভাবে তাকে শহিদ ঘোষণা করা হয়নি। আমরা চাই তাকে যোগ্য সম্মান দিয়ে তার সঠিক প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হোক সরকারি তরফে।
বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, দেশের জন্য আত্ম বলিদান দিয়েছে চুড়কা মুর্মু। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়েছে।

