আমাদের ভারত, ২৯ অক্টোবর: খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় সমাবেশে আজ কেরালায় পরপর তিনটি ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের আহত ৩৬ জন। কেরালার বিস্ফোরণের পরেই মুম্বাই ও দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
কেরালার ঘটনার প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ তাদের সতর্কতা বাড়িয়েছে এবং জনঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে খবর, যে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিল্লিজুরে জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
একদিকে উৎসবের মরশুম, তার সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ। এই পরিস্থিতিতে কেরালার বিস্ফোরণের ঘটনার কারণে মুম্বাই পুলিশও হাই এলার্ট জারি করেছে। কড়াকড়ি করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইসরাইল হামাস সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে মুম্বাইয়ে ইহুদি সম্পৃক্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে তামিলনাড়ুতেও। রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
কেরালা পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় একটি ইমপ্রভাইসড এক্সক্লুসিভ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। মামলার তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। বিস্ফোরক একটি লাঞ্চ বক্সে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানাগেছে। বিস্ফোরণের ঘটনার পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে কথা বলেছেন। অমিত শাহ
এনআইএ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন। এরা এই ঘটনার তদন্ত নামছে।
এই বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারায় বিজয়ণ বলেছেন, সরকার ঘটনার বিষয় তথ্য সংগ্রহ করছে। এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ডিজিপির সঙ্গে কথা হয়েছে, তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
রবিবার সকালে কেরলের কালামারাকালসেরিতে এটি কনভেনশন সেন্টারে জোড়ালো বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৬ জন আহত হয়েছেন। একজন মারা গেছেন। একজন পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ন’টায় প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। পরের কয়েক মিনিটে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। রবিবার ছিল তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় প্রার্থনা সভার শেষ দিন। কর্মকর্তাদের মতে বিস্ফোরণের সময় প্রার্থনা সভায় প্রায় দুই হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল।

