আমাদের ভারত, ৬ মার্চ: আগামী ১২ -১৪ মার্চ রাজ্য সফরে আসছেন দিল্লির কৃষক আন্দোলনের নেতারা। তারা যাবেন সিঙ্গুর নন্দীগ্রামেও । বঙ্গ রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তবে এবার ভোটে তার গুরুত্ব আরো বেড়েছে। কারণ সেখান থেকে লড়াই করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রধান মুখ প্রাক্তন তৃণমূল নেতা এবং বিজেপির আস্থাভাজন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে দিল্লির কৃষক আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক মমতার কাছে এই কৃষক নেতাদের রাজ্যে আগমণ ফলপ্রসূ হতে পারে এই ভোটের মুখে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে বিজেপি বিরোধী এই কৃষক জমায়াত উপরি পাওনা হতে নাও পারে তৃণমূলের জন্য। কারণ সেই পথের কাঁটা হতে বামেরা। কারণ প্রতিবাদী কৃষকরা ঘোষণা করেছেন বাংলার কর্মসূচিতে পুরোদমে থাকবে সারা ভারত কিষান সভার উপস্থিতি, থাকবেন সিপিআইএম নেতা হান্নান মোল্লা। ফলে তৃণমূল এই আন্দোলনের ধারে কাছেও যেতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতাদের ১১ মার্চ রাতে রাজ্যে আসার কথা।১২ মার্চ সাংবাদিক বৈঠক করে দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা তাদের। কৃষক আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত কৃষকরা এরপর বাংলার কৃষকের হাতে দেশের কৃষকদের তরফের চিঠি তুলে দেবেন। সেদিনই প্রথমে ট্রাক্টর নিয়ে মিছিলের পর দুপুর তিনটে থেকে কৃষক-মজুর মহাপঞ্চায়েতের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। এরপর রাতে রওনা হবে হলদিয়ার উদ্দেশ্যে। ১৩ মার্চ অর্থাৎ ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবসের ঠিক আগের দিন কৃষক-মজুর মহাপঞ্চায়েত হবে নন্দীগ্রামে।
দিল্লির কৃষক আন্দোলনের মুখ রাকেশ টিকায়েত, যোগেন্দ্র যাদব, বালবির সিং, দর্শন পালের মত নেতাদের হাজির থাকার কথা এই সভায়।
তবে অস্বস্তি বাড়তে পারে বামেদেরও। কারন নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে কৃষক আন্দোলনের কথা বললেই যে ইতিহাসের কথা মনে পড়বে তার বামেদের বিতর্কিত অধ্যায়। নন্দীগ্রামে কৃষক-মজুর মহাপঞ্চায়েতের অর্থ সে আন্দোলনের স্মৃতি উস্কে দেওয়া তাও আবার বাম কৃষক সংগঠনের নেতৃত্বের সামনেই।
নন্দীগ্রাম ছাড়াও কলকাতার একাধিক অঞ্চলে আলাদা করে কৃষক মজুর মহাপঞ্চায়েতের আয়োজনের ঘোষণা করা হয়েছে সংযুক্ত কিষান মোর্চা সংগঠনের তরফে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে কোনো রাজনৈতিক শক্তির সমর্থনে তারা প্রচারে আসছেন না। তারা আসছেন কৃষকদের হয়ে কথা বলতে। সারা ভারতে কৃষকদের অধিকারের দাবিতে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তারই একটি পর্যায়ে হিসেবে বাংলা কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে আসছেন কৃষক নেতারা।

