আমাদের ভারত , ২৩ এপ্রিল:গতবছর এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে মৃত্যু মিছিলের দৃশ্য ধরা পড়েছিল নিউ ইয়র্কের একাধিক স্থানে । জায়গা কম পড়ায় সেখানে থরে থরে কফিন সাজানো ছিল। কোভিডে মৃতদেহের গণকবর দেওয়া হচ্ছিল সেখানে। এবার সেই একই ছবি এবার উঠে এলো ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও। অতিমারীর এই সময়কালের ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে একের পর এক সারি সারি চিতায় আগুন জ্বলছে। মাঝে শুধু একটা শুরু দেওয়াল তার পাশেই একটা জনবসতি। সেই সময় নিউ ইয়র্কে কোভিডে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ছিল। দিল্লিতে এখনই কোভিডের মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে।
দৈনিক সংক্রমণে রেকর্ড গড়েছে ভারত। ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৩০ জন সংক্রমিত হয়েছেন আজ দেশে। দিল্লিতে নতুন করে ২৬ হাজার ১৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের তথ্য বলছে একদিনে সেখানে ৩০৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আর সেই পরিস্থিতিতে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাশে গণ চিতার ছবি সামনে এসেছে সংবাদ সংস্থার হাত ধরেই। রয়টার্স জানিয়েছে শুধু শ্মশানেই নয় রাজধানীর কবর স্থান গুলোতে একই পরিস্থিতি। দেহ সমাধিস্থ করতে হিমশিম পরিস্থিতি মৃতের পরিবারের।
এর আগে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশের মত জেলাতেও শ্মশানের বাইরে মৃতদেহ নিয়ে সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তষ দিল্লিতে শ্মশানের বাইরে লাইনে জায়গা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়িতেই প্রিয় জনের মৃতদেহ রেখে দিচ্ছেন মানুষ। এক কোভিড আক্রান্ত মহিলার আত্মীয় বলছেন দুদিন আগে তার মা মারা গিয়েছেন। কিন্তু শ্মশানে দাহ করার জায়গা পাননি তিনি। তাই বাধ্য হয়ে মায়ের দেহ দুদিন বাড়িতেই রেখেছিলেন তিনি। চারিদিক চষে বেড়িয়েছেন কোথায় দাহ করতে পারবেন সেই জায়গা খুঁজতে। শেষে একটি পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে তার মাকে দাহ করার সুযোগ পান তিনি।
এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য বলেছেন, “দিল্লিতে এই দৃশ্য দেখতে হবে কেউ ভাবতে পারেনি। মৃতদেহের মধ্যে কারো কারো বয়স পাঁচ, কারো পনেরো, কারো পঁচিশ। সদ্য বিবাহিত এমনও অনেক মানুষের দেহ শ্মশানে রয়েছে। এই অবস্থা চোখে দেখা যাচ্ছে না। পার্কিং লটের অস্থায়ী শ্মশানে বৃহস্পতিবার বিকেলে ৬০টি দেহ দাহ করা হয়েছে।জায়গা না পাওয়ায় পড়েছিল ১৫টি দেহ। গতবছরের পরিস্থিতি এত ভয়ানক ছিল না বলে তার মত। সংক্রমণ যেদিন সর্বোচ্চ মাত্রায় উঠেছিল সেদিনও আঠারোটি দেহ দাহ করতে হাত লাগাতে হয়েছিল। সেখানে গত মঙ্গলবার একই শ্মশানে ৭৮টি দেহ দাহ করা হয়েছে।
সরকারি স্বাস্থ্য কর্মী হওয়া সত্বেও হাসপাতালে জায়গা হয়নি অনেকের। এই অভিজ্ঞতাও মানুষের হচ্ছে। লড়াইটা এখন একার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

