৯ বছরের শিশুকন্যাকে গণধর্ষণের পর খুন, পরিবারের অনুমতি ছাড়াই দেহ জ্বালানোর অভিযোগ

আমাদের ভারত, ৩ আগস্ট : বাড়ির উল্টো দিকে শ্মশানে কুলার থেকে ঠান্ডা জল আনতে গিয়েছিল ৯ বছরের এক শিশুকন্যা। সেখানেই তাকে গণধর্ষণ করে দুষ্কৃতীরা। তারপর খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর অভিযুক্তরা তথ্যপ্রমান লোপাটের চেষ্টায় মেয়েকে মা বাবার অনুমতি ছাড়াই তড়িঘড়ি শ্মশানে জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ মেয়েটির মা সহ গোটা গ্রামবাসীর।

ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিন পশ্চিম দিল্লির পুরানো নাঙ্গেলি গ্রামে। ওই গ্রামের শ্মশানের উল্টো দিকের বাড়িতে ভাড়া থাকত পরিবার সহ শিশুটি। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টা নাগাদ মেয়েটি তার মা কে জানিয়ে জল আনতে যায়। কিন্তু আধা ঘন্টা পর শ্মশানের পুরোহিত রাধেশ্যাম ও তার সহকারী সেলিম, কুলদীপ এবং লক্ষীনারায়ণ মাকে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানায়। কুলারে জল ভরার সময় তড়িতাহত হয়ে মারা গেছে বলে দাবি করে তারা।

আরও অভিযোগ পুলিশে খবর না দিয়ে অভিযুক্তরা তাড়াতাড়ি মেয়ের শেষ কৃত্য সারার জন্যেও বলে এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়াই জ্বালিয়ে দেয় শিশুটির দেহ।

শিশুটির মায়ের অভিযোগ যে, ওই অভিযুক্তরা পাশাপাশি তাদেরকে এও বোঝায় যদি তারা পুলিশে খবর দেয় তাহলে মামলা হবে ও তাদের মেয়ের দেহের ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। ময়নাতদন্ত হলে মেয়ের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলি বের করে নেওয়া হবে তাই পুলিশে খবর না দিয়ে তাড়াতাড়ি মেয়েকে জ্বালিয়ে দেওয়াই শ্রেয়।

শিশুটির মা পুলিশকে এও জানিয়েছেন যখন তিনি মেয়েকে প্রথম দেখেন তার মেয়ের বাম হাতের কবজি এবং কনুইয়ের মাঝে পোড়া দাগ ছিল। মেয়ের ঠোঁট তখন নিলচে হয়ে গেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

শিশুটির মা সরব হতেই ঘটনাটি গ্রামে জানাজানি হয় ঘটনা। প্রায় ২০০ জন গ্রামবাসী উপস্থিত হয় সেখানে এবং বিক্ষোভে সামিল হয় তারা। তারাই পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং গ্রেফতার করে ৪ জন অভিযুক্তকে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও হুমকির অপরাধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০২, ৩৭৬, ৫০৬ ধারা সহ পসকো এবং তফসিলি জাতি – উপজাতি আইনে মামলা রুজু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *