ডিগ্রি কোর্সে অন্তর্ভুক্ত হল বেদ, জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় বৈদিক শিক্ষা প্রসারে উদ্যোগী কেন্দ্র

আমাদের ভারত, ১৫ মে: বৈদিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে উদ্যোগী হল কেন্দ্র। জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় বৈদিক শিক্ষা প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বেদ ভিত্তিক শিক্ষা বোর্ড গঠন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক।

জানা গেছে, অন্য বোর্ড গুলোর মতই বৈদিক বোর্ড কাজ করবে। এই নতুন বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকবেন সংস্কৃত ভাষা বিশেষজ্ঞ ও বৈদিক গণিতজ্ঞরা।

বর্তমানে কোনো স্বীকৃত বোর্ডের পাঠক্রমে বৈদিক পড়াশোনার সুযোগ নেই। কিন্তু কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক ইচ্ছুকদের বৈদিক পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে চায়। যেখানে অন্য বোর্ড গুলির মতো ডিগ্রিও পাওয়া যাবে।

এভাবেই জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় ভারতের ঐতিহ্য বৈদিক ব্যবস্থাকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে চায় কেন্দ্র। এর মূল উদ্দেশ্য আধুনিক সমাজে বেদ পাঠের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা। বর্তমানে মহাঋষি সন্দীপনী প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার শিক্ষার্থীকে বৈদিক শিক্ষা দেয়। এবার বোর্ড গঠন করে সেই শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়াতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, বর্তমান যুগে বেদ পাঠকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতেই বৈদিক শিক্ষা বোর্ড গঠন করবে মন্ত্রক। বেদ ভারতের সংস্কৃতির ভিত্তি। কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপাতত পাঁচটি বেদ বিদ্যাপীঠ গড়ে তোলা হবে। এই বিদ্যাপীঠ গুলির নেতৃত্ব দেবে মহাঋষি সন্দীপনী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যাপীঠগুলি গড়ে তোলা হবে চার ধাম ও কামাখ্যা দেবী মন্দিরে। বেদ বিশেষজ্ঞ শঙ্করলাল চতুর্বেদী বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে বেদ শিক্ষা ভারতের ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বেদ শিক্ষা কোনো ধর্মীয় বিষয় নয় বরং এতে রয়েছে উন্নত জীবনযাপনের জ্ঞান ও বিজ্ঞান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মন কি বাত অনুষ্ঠানে বৈদিক শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছিলেন, বৈদিক গণিত শিখলে শিশুদের অংক নিয়ে ভয় কেটে যাবে। বৈদিক গণিত জানলে বড়োসড়ো বৈজ্ঞানিক সমস্যারও সমাধান করা সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *