সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৮ জুলাই: বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের এনে বুথ দখল করে ছাপ্পা দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করতে গেলে সিপিএম সমর্থিত নির্দল কর্মীদের মারধর করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এমনই অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের নওদা গ্রামের ৭৭ নম্বর বুথে। এই ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ১৬ জন বাগদা গ্রামীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা প্রায় এক ঘন্টা ধরে বুথ দখল করে ছাপ্পা মারছিল। ওই বুথে কোনো পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকার সুযোগ নিয়ে এই কাজ করছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করতে গেলে সিপিএম সমর্থিত নির্দল কর্মীদের মারধর করে। পরে ভোট বন্ধ করে ব্যালট বক্সের মধ্যে জল ঢেলে দেয় গ্রামবাসীরা।

অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতী এনে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের লোকেরা ব্যালট লুট করে অবাধে ছাপ্পা দিয়েছে বলেও অভিযোগ। প্রতিবাদ করায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জখম প্রায় ৩০ জনকে একে একে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তাদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের পরে বনগাঁ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়ার মধ্যে আচমকাই ছন্দপতন। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বুথের মধ্যে ঢুকে ভোটকর্মীদের বাইরে বের করে দিয়ে দেদার ছাপ্পা ভোট দিতে শুরু করে। এমনকি ব্যালট বাক্স সীমান্তের ওপারেও নিয়ে যাওয়া হয়। ছাপ্পা ভোটের খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন বিক্ষুব্ধ সিপিএম কর্মীরা। প্রতিরোধ করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। আর এই হামলার হাত থেকে রেহাই পাননি মহিলারাও। আহতদের তালিকায় মহিলারাও রয়েছেন। ঘটনার সময় ধারালো অস্ত্র সহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দু’পক্ষই একে অপরের উপর দোষ চাপিয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসীরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে সমস্ত ব্যালট বাক্সে জল ঢেলে দেন। তাদের দাবি, এই ভোট বাতিল করে আলাদা দিনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে নতুন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

