স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ৯ ফেব্রুয়ারি: আগামীকাল ১০-ই ফেব্রুয়ারী, বুধবার রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামে কর্মিসভা করতে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সভা করবেন তিনি। তবে সভাস্থল থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চারপাশে প্রচুর মাইক লাগানোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন নিয়ম মেনেই সভা করা হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষন ঘোষনা না হলেও নির্বাচনী যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সব রাজনৈতিক দল। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক সভা করবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষাধিক মানুষকে সভাস্থলে নিয়ে আসার টার্গেট নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রথমদিকে কালিয়াগঞ্জের চান্দোল মাঠে তৃণমূল নেত্রীর সভা করার কথা থাকলেও রাতারাতি সভাস্থল সরিয়ে নিয়ে আসা হয় রায়গঞ্জে। রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামের সভামঞ্চ থেকে প্রায় দেড়শো মিটারের মধ্যে অবস্থিত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। দলনেত্রীর সভা উপলক্ষে মেডিক্যাল কলেজের আশেপাশে লাগানো হয়েছে প্রচুর মাইক। আর তা নিয়েই তৈরী হয়েছে জোর বিতর্ক।

জেলা বিজেপি সভাপতি বিশ্বজিত লাহিড়ী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সাধারন মানুষের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে চিন্তিত নয়। মেডিক্যাল কলেজে প্রচুর মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের অসুবিধার কথা না ভেবেই এত মাইক লাগানো হয়েছে। আসলে এই দলে কোনো নিয়মশৃঙ্খলা নেই। সার্কাস পার্টি হয়ে গিয়েছে তৃণমূল।”
জেলা কংগ্রেসের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট পবিত্র চন্দ বলেন, “মেডিক্যাল কলেজের পাশে কোনওভাবেই মাইক লাগিয়ে সভা করা উচিত নয়। কিন্তু সব জেনেও প্রশাসন কীভাবে এই মাঠে সভার অনুমতি দিল? তৃণমূল দল কোনো নিয়ম,কানুন মানে না। বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ হয়েছে তাদের।”
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, “এসবই বিরোধীদের অপপ্রচার। স্টেডিয়ামের ঘেরা জায়গায় সভা হচ্ছে সব নিয়ম মেনে। রোগীদের কোনো অসুবিধা হবে না।” তিনি আরো বলেন, “মেডিক্যাল কলেজের ঢিলছোঁড়া দূরত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ সভা করেছেন। তখন বিজেপি নেতৃত্ব কেন চুপ ছিলেন?”

