অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৭ মার্চ: “চোখের জলের বিনিময়ে হৃত সম্মান ফিরে পাওয়া যায় না।“ ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “কাশ্মীর ফাইলস সংক্রান্ত সিনেমাটি নিয়ে এখন হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে যে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা লক্ষ্য করেই কিছু চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। জানি কিছুটা ছন্দপতন হবে এই পোস্টে। অনেকের মনে হবে এটা নেগেটিভ পোস্ট। কিন্তু মনের কথা শেয়ার না করে পারলাম না।
মুসলমানদের উপরে আগ্রাসন, নিপীড়ন, অত্যাচারের কাহিনী শোনানো হয়, ভিডিও দেখানো হয় মুসলিম যুবকদের। সেই সব দেখে এবং শুনে তাদের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া হয় এবং কাশ্মীর ফাইলস এর মত সিনেমা দেখে হিন্দু যুবকদের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে- এই দুটোর মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে?
ফলশ্রুতিতে মুসলমানদের মধ্যে একটা অংশ তাদের উপরে ঘটে যাওয়া (তাদের চোখে) অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে, মূল্য দিতে সংকল্পবদ্ধ হয়, এই সিনেমা দেখার পরে হিন্দুদের মধ্যেও সেরকম কিছু দেখা যাবে?
নোয়াখালি থেকে অত্যাচারিত হয়ে পালিয়ে আসা হিন্দুদের উত্তরপুরুষরা কাশ্মীরের হিন্দুদের উপর অত্যাচারের সিনেমা দেখে কিছু একটা বিহিত করার জন্য ঝুঁকি নেবে? ত্যাগ স্বীকার করবে? উপযুক্ত মূল্য দিতে তৈরী হবে?
কাশ্মীরের মুসলমানদের উপর (তাদের ভাষায়) ভারতীয়দের আগ্রাসনের প্রতিকারের লক্ষ্যে কাশ্মীরে কতজন যুবক বন্দুক ধরেছে, শহীদ হয়েছে? পক্ষান্তরে চূড়ান্ত অপমানিত, অত্যাচারিত, বিতাড়িত, মা-বোনের ধর্ষণের সাক্ষী হওয়ার পরেও কতজন কাশ্মীরী হিন্দু বন্দুকের জবাবে বন্দুক তুলে নিয়েছে? আত্মবলিদান দিয়েছে?
অনেকে বলছেন নোয়াখালি ফাইলস, চুকনগর ফাইলস ইত্যাদি সিনেমা তৈরি হোক। কেন? সবাইকে জানানোর জন্য? পরবর্তী প্রজন্মকে সচেতন করার জন্য? কী লাভ হবে? আমরা যারা এই সব ইতিহাস জানি, তাদের সংখ্যাও তো নেহাত কম নয়! আমরা কী করেছি? আমরা কী করছি? আমরা কী করবো? কোনও অ্যাকশন প্ল্যান আছে?
আমার কাছেও সমাধান নেই, কিন্তু নিশ্চিত করে জানি, চোখের জলের বিনিময়ে হৃত সম্মান ফিরে পাওয়া যায় না।”

