সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১১ ফেব্রুয়ারি: নিতুরিয়ায় ইস্পাত আয়রন কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় মানুষ কর্তৃপক্ষের বিরূদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের সুরক্ষা ছাড়াই শ্রমিকদের কাজ করানো হয় সেখানে। তাঁদের প্রশ্ন আর কত শ্রমিকের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে শাকাম্বারি ইস্পাত আয়রন কারখানা? খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের বাধা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, মর্মান্তিক মৃত্যু হয় রাজেশ বাউরী নামে ওই যুবক শ্রমিকের। ওই ইস্পাত আয়রন কোম্পানিতে কাজ করছিলেন তিনি। কাশীপুর ব্লকের কালিকেন্দ গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবকের দুই মেয়ে ও এক শিশু সন্তান সহ বৃদ্ধা বাবা এবং মা রয়েছে বাড়িতে। পরিবারের সকলের দায়িত্বভার তাঁর মাথায় ছিল। গত দুই বছর ধরে করোনাকালে কাজ না থাকায় ঘর সংসার চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাকে। নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়ে বর্তমান দিনে রাজ্য সরকারের বিধি অনুসরণ করে পুরুলিয়া জেলার অন্তর্গত নিতুরিয়া থানার অধীনে থাকা শাকাম্বারি ইস্পাত আয়রন কোম্পানিতে কল হুপার ইউনিটের কাজে যোগদান করেছিলেন তিনি।

সূত্রের খবর বেপরোয়া কারখানা কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি গ্রাহ্য করে না। মাথায় হেলমেট, হাতে হ্যান্ড গ্লাভস, পায়ের জুতো এই ধরনের বিভিন্ন প্রকারের সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয় না কর্মীদের। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে এই ধরনের বলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের অভিযোগ। আজ ঘটনার খবর পেয়ে রঘুনাথপুর বাউরী সমাজের সম্পাদক এবং রঘুনাথপুর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সঠিক সুরাহার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে বলেন তাঁরা।

