আমাদের ভারত, ১৫ ফেব্রুয়ারি:১১ফেব্রুয়ারি নবান্ন অভিযানে গিয়ে পুলিশের হাতে বেধড়ক মার খেয়েছিল বাঁকুড়ার কোতুলপুরের ডিওয়াইএফআই নেতা মহিদুল ইসলাম মিদ্যা। মাথা, কোমর, বুক ও কিডনিতে চোট পেয়েছিলেন বছরের ৩১ এর মইদুল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে সকাল সাতটা নাগাদ তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাম নেতা কর্মীরা।
পেশায় অটোচালক মইদুল ডিওয়াইএফআইয়ের বাঁকুড়ার গোপীনাথপুর ইউনিটের সেক্রেটারি ছিলেন। এলাকায় দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিল সে। ১১ফেব্রুয়ারি নবান্ন অভিযান অভিযানে সে গিয়েছিল এলাকার বাম কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে। একেবারে সামনের সারিতে ছিল মইদুল। সেদিন ব্যারিকেড ভাঙ্গার পরেই পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় বা ছাত্র-যুব নেতাদের সংঘর্ষ। পুলিশের লাঠির আঘাতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন মইদুল।

গুরুতর আহত মইদুলকে প্রথমে বাম নেতা ডাক্তার ফুয়াদ হালিমের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যামাক স্ট্রীটের একটি হাসপাতলে। ফুয়াদ জানিয়েছেন, লাঠির আঘাতে মারাত্মক ক্ষত হয় তার শরীরে। পুলিশের হাতে মার খেয়ে মৃত্যু হয়েছে যুবনেতার।
এই ঘটনা ক্ষুব্ধ বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এটা তো খুন! নবান্নের সাহস হলো না ছাত্র-যুবদের কথা শোনার। তাদের ওপর বেধড়ক আক্রমণ করা হয়। গরিব মানুষকে নিয়ে লড়াইয়ে লাঠি চালালো সরকার। জলজ্যান্ত একটা ছেলেকে লাশ বানিয়ে দিল সরকার। ক্ষমতা দেখিয়ে খুন করছে সরকার।” তার প্রশ্ন আর কত লাশ চাই সরকারের?”
বাম নেতৃত্বের অভিযোগ সেদিনের পর থেকে পাঁশকুড়ার এক যুবনেতাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
কলেজস্ট্রিট থেকে মিছিল নিয়ে এগোতে শুরু করে বাম ছাত্র যুব সংগঠনের সদস্যরা। ধর্মতলা ডরিনা ক্রসিং-এর কাছে ছিল পুলিশের ব্যারিকেড। সেটা ভেঙ্গে ফেলে আন্দোলনকারীরা। তারপর এগোতে শুরু করলে উত্তেজনা শুরু হয়। জলকামান দিয়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ চেষ্টা করে পুলিশ। চালানো হয় কাঁদানো গ্যাস। যদিও পুলিশের অভিযোগ আন্দোলনকারীদের তরফেও ইঁট ছোড়া হয়েছে তাদের দিকে। বেধড়ক লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ধর্মতলা। ছবিতে ধরা পড়ে বহু বাম কর্মী-সমর্থকের মাথা ফেটে গেছে। টিয়ার গ্যাসের ঝাঁজে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে অনেককে। গ্রেফতার হয়েছিল বহুকে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অনেকেই।
এই ঘটনার প্রতিবাদে পরের দিন শুক্রবার ১২ ঘন্টার বাংলা বন্ধের ডাক দিয়েছিল ষোলটি বাম দল ও ছাত্র যুবরা।

