আমাদের ভারত, ১২ জুলাই :উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন ৬৮ জন, আহত অনেকে। আজ সেইসব মৃতদের পরিবারকে ২ লাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকার সাহায্যের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শনিবার থেকে চলতে থাকা ভারী বৃষ্টি সহ প্রবল বজ্রপাতে প্রাণ হারান ৬৮ জন। রবিবার উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের জেরে মৃত্যু হয়েছে মহিলা শিশু সহ ৪১ জনের। তার মধ্যে এক প্রয়াগরাজেই মারা গেছেন ১৪ জন। মারা গেছে বেশ কিছু গবাধি পশুও। রাজ্য সরকার দপ্তর থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে যথোচিত সাহায্যের আশ্বাস হয়েছে।


একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের , এবং রাজস্থানে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজস্থানে মৃতদের মধ্যে ৭ জন শিশু। বজ্রপাতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১০ জনেরও বেশি মানুষ। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহেলত মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন।
সোমবার সকালে উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এবং রাজস্থানে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধান মন্ত্রী । সঙ্গে প্রধান মন্ত্রী ন্যাশনাল রিলিফ ফান্ড (পিএমএনআরএফ) থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা জানানো হয়েছে ।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) থেকে সোমবার উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঝড় এবং প্রবল বজ্রপাত সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে , জারি করা হয়েছে সতর্কতাও।
প্রতিবছরই ভারতে ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের জেরে প্রাণ হারায় বহু মানুষ। তথ্য বলছে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছরই বিদ্যুপৃষ্ট হয়ে দুই হাজারের কাছাকাছি মানুষ মারা যান, যা ১৯৬০ সালের তুলনায় দ্বিগুন। গত ২৮ জুলাই, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিকাল মিটারোলজি- পুণের (আইআইটিএম) বজ্র বিদ্যুত নিয়ে সচেতনতামূলক একটি অনুষ্ঠানে এই দাবি করেন আইএমডি-এর বিজ্ঞানীরা।
বজ্রপাতের শক্তি বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বিশ্ব জুড়ে জলবায়ু সংকট এবং উষ্ণায়নের জেরে পৃথিবী পৃষ্ঠে বাড়তে থাকা আদ্রতাকে দায়ী করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারই সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা ও সতর্কবার্তা ঠিক সময়ে সকল মানুষের কাছে পৌঁছায় না, যা তাদেরকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয় বলে মনে করছেন তারা । অনুষ্ঠানে, বজ্রপাতের শক্তি ও এর জেরে বাড়তে থাকা মৃত্যুর ঘটনায় গভীর চিন্তাও প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

