সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৭ আগস্ট: সাপের কামড়ে মৃত গৃহবধূর দেহ মনসার থানে নিয়ে গিয়ে ফেলতে পারলেই বাঁচিয়ে দেওয়া আশ্বাস পরিবারকে। ওঝার কথায় বিশ্বাস করে হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহ মনসার থানে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার দেহালদহ গ্রামে। প্রতিবাদে সরব হল যুক্তিবাদী মঞ্চ। তাঁদের দাবি ওই বুজরুক ওঝাকে গ্রেফতার করা হোক।

মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বাগদা থানার সাগরপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়না দাস (৪০) নামে এক গৃহবধূকে বাড়ির ভেতরেই সাপে কামড়ায়। বাড়ির লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর তাঁর দেহ ময়না তদন্তের জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে, ওই গৃহবধূর মৃত্যুর কথা জানতে পেরে বাগদার দেয়ালদহ গ্রামের বাসিন্দা ভোলা সরদার নামে এক ওঝা দাবি করেন যে, সম্প্রতি তিনি মা মনসার স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন। তাতে তার দাবি, মায়ের স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী কোনও সাপে কাটা রোগীর মৃতদেহ মা মনসার থানে নিয়ে এসে ফেলতে পারলেই তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবেন ওই ওঝা। যদিও এর আগে তিনি একজনকেও এভাবে বাঁচানোর ঘটনা ঘটাতে
পারেননি।
পরিবারের সদস্যের মৃত্যুতে বিহ্বল ওই গৃহবধূর স্বামী নিমাই দাসের এ ব্যাপারে বক্তব্য, ‘ওই ওঝা যখন বলেছেন যে আমার মৃত স্ত্রীকে বাঁচিয়ে দিতে পারবেন, তাই তার কথায় ভরসা করে আমরা মৃত আয়নার দেহ মর্গ থেকে এনে ওই ওঝার মনসার থানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সরব হয়েছে যুক্তিবাদী মঞ্চ। সংগঠনের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি সজল ভদ্র জানান, ‘এটা সম্পূর্ণ বুজরুকি। কু-সংস্কারকে সঙ্গী করে এভাবেই গ্রামের এক শ্রেণির মানুষ ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের বোঝা উচিত, একবার কেউ মারা গেলে তাঁকে আর কোনও ভাবেই বাঁচিয়ে তোলা যায় না।’
এই ধরনের বুজরুকির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। যুক্তিবাদী মঞ্চের আরও দাবি, অবিলম্বে কু-সংস্কার বিরোধী বিষয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে ছাত্রাবস্থাতেই কু-সংস্কারের ব্যাপারে সচেতন করে তোলা হোক ছাত্রছাত্রীদের। আর তাহলেই কু-সংস্কারমুক্ত হবে সমাজ।

