গ্যাসের দাম বাড়ল, আরও বাড়বে অনেকটা আশঙ্কা ডিলারদের

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত ২২ মার্চ: রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে আমজনতার মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্যাস ডিলারদের দাবি, শীঘ্রই এই দাম দফায় দফায় আরও বাড়বে। এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, ডিলারদের একাংশ যথাসময়ে সিলিন্ডার সরবরাহ না করে চেপে রেখেছিলেন এই বাড়তি দাম নেওয়ার জন্য। যদিও ডিলারদের তরফে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপিছু ৯২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৯৭৬ টাকা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে চালু হয়েছে এই নতুন দাম। এমনিতে সিলিন্ডার চাওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে গ্রাহকের কাছে তা পৌঁছে যায়। কিন্তু কিছু অঞ্চলে ১০-১২ দিন আগে সিলিন্ডার চাওয়ার পরেও তা পৌঁছয়নি। এতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বর্ধিত দাম গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়ার জন্য ডিলাররা সিলিন্ডার মজুত করে রেখেছেন?

পশ্চিমবঙ্গে ইন্ডেন ডিলারের সংখ্যা ৯০০-র ওপর। এর মধ্যে কলকাতা এবং সংলগ্ন দুই ২৪ পরগণায় সংখ্যাটা প্রায় ২৫০। ইন্ডেন ডিস্ট্রিবিউটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজনবিহারি বিশ্বাসের মতে, “মূল্যবৃদ্ধির কথা ভেবে কোনও ডিলারের পক্ষে সিলিন্ডার মজুত করে রাখা সম্ভব নয়। কারণ, প্রতিদিন প্রতিটি ডিলার কত সিলিন্ডার পাচ্ছেন এবং সরবরাহ করছেন, অনলাইনেই তার হিসেব থাকে। এর ভিত্তিতে ডিলার সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারেন। এ ছাড়াও, মজুত হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য সরকারের নজরদার আছেন। ধরা পড়লে মোটা টাকা জরিমানা হয়।”

তাহলে মূল্যবৃদ্ধিতে মুখে কেন সিলিন্ডার সরবরাহে এই দেরি? বিজনবাবুর জবাব, দোল-হোলির সপ্তাহান্তে সরবরাহকারী অর্থাৎ ডেলিভারিম্যানদের একাংশ ছুটি নেয়। এটা একটা সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।“ কিন্তু এর জন্য কেন বাড়তি মাশুল গুনতে হবে গ্রাহককে? তার স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিজনবাবু বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দামের ওঠানামার সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার দাম ধার্য হয়। মূলত ভোটের জন্য গত ২-৩ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি তৎক্ষণাৎ চালু হয়নি। আমাদের আশঙ্কা, শীঘ্রই সিলিন্ডার-পিছু দাম ১,২০০/- হয়ে যাবে।”

দাম যা-ই হোক, ডিলার এবং ডেলিভারিম্যানরা কিন্তু সেই তিমিরেই বলে দাবি করেন বিজনবাবু। এই প্রতিবেদককে বলেন, “ডিলাররা সিলিন্ডার-পিছু পান ৬১ টাকা করে। ডেলিভারিম্যানরা সিলিন্ডার-পিছু ১৫ টাকারও কম। এক জন ডেলিভারিম্যান সর্বোচ্চ দিনে ৩০টি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারেন। ফলে গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য তাঁদের গ্রাহকদের কাছ থেকে বকশিস নিতে হয়। এ নিয়ে কিছু অভিযোগও ওঠে। ২০১৭ সালে আইআইএম আহমেদাবাদের কিছু বিশেষজ্ঞকে দিয়ে গোটা পরিস্থিতির সমীক্ষা করানো হয়েছিল। তার রিপোর্ট সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, সমীক্ষায় ডেলিভারিম্যানের বাড়তি আয়ের সংস্থানের কথা বলা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে সিলিন্ডারের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ সব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *