মৃত ব্যক্তিও তুলছে রেশন! বালুরঘাটে আধার লিঙ্ক করতে এসেই চক্ষু চড়কগাছ গ্রাহকদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৫ জুলাই: সাধারণ গ্রাহকদের বোকা বানিয়ে বছরের পর বছর রেশন সামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠল ডিলারদের বিরুদ্ধে। মৃত ব্যক্তিদের রেশনকার্ড জমিয়েই চলছিল রমরমা এই কারবার। আধারের সাথে রেশন কার্ডের লিঙ্ক করতেই প্রকাশ্যে এসেছে এমন ঘটনা। চক্ষু চড়কগাছ গ্রাহকদের।

মৃত মানুষদের রেশন কার্ড বছরের পর বছর চালু রেখেই এমন প্রতারণা করা হয়েছে সরকারের সাথে, অভিযোগ গ্রাহকদের। বালুরঘাটের চিঙ্গিসপুরের এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে। রেশন দুর্নীতির কারণেই “এক দেশ-এক রেশন কার্ড” প্রকল্পের বিরোধিতা করা হচ্ছিল বললেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

সুর্প্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরেই গোটা রাজ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেও শুরু হয় রেশন কার্ডের সাথে আধার লিঙ্ক করার কাজ। প্রথম থেকে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের বিশেষ করে পরিবারের প্রধানের আধার কার্ড না থাকলে সেই লিঙ্ক করা সম্ভব হচ্ছিল না। কোনও কোনও পরিবারের প্রধান দশ বা কুড়ি বছর আগে মারা গিয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যরাও করতে পারছিলেন না রেশন কার্ডের আধার লিঙ্ক। কেননা সেই দশ বা কুড়ি বছর আগের মৃত ব্যক্তি খাতায় কলমে আজও জীবিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, তার নামে উঠছে দিব্যি রেশনের জিনিসপত্রও। অনলাইন পোর্টালে এমন দৃশ্য দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ গ্রাহকদের। তাদের অভিযোগ, নিদিষ্ট সময়ে পরিবারের মৃত সদস্যের রেশন কার্ড জমা করে তা বাতিলের আবেদন করা হয়েছে ডিলারদের কাছে। তার পরেও তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়নি তালিকা থেকে। যে কার্ডে গ্রাহকরা রেশন সামগ্রী না পেলেও ডিলাররা প্রতি সপ্তাহে তাদের নামে রেশন সামগ্রী তুলছিলেন বলে অভিযোগ। বালুরঘাটের চিঙ্গিসপুর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আধার লিঙ্ক নিয়ে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। নতুন জারি করা নিয়মে পরিবারের সদস্যদের আধারকার্ড থাকলেই রেশন কার্ডের সাথে তার লিঙ্ক করা হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ামক জয়ন্ত রায় জানিয়েছেন, আগে এমনটা থাকলেও পরবর্তীতে রেশন কার্ডের সাথে আধার লিঙ্কের বেশকিছু নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে সরকারিভাবে। তিনি আরও বলেন, কোনও ব্যক্তি মারা গেলে সেই রেশন কার্ড কখনই ডিলারদের দেওয়া যাবে না। সেই কার্ড বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন গ্রাহকরা।

গ্রামবাসী আনন্দ পাহান, মামনি পাহান ও মামনি টুডুরা বলেন, রেশন ডিলাররা তাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। দশ বা কুড়ি বছর আগে তাদের পরিবারের লোক মারা যাবার পরেই কার্ডগুলি জমা নিয়ে নিয়েছেন। বলেছিলেন বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু আধার লিঙ্ক করতে গিয়ে তাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে মৃত সদস্যদের জীবিত বানিয়ে রেখে রেশনের সামগ্রী তারা আত্মসাৎ করেছে।

রেশন ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ভুপেশ চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, এখন থেকে মৃত ব্যক্তিদের রেশনকার্ড আর শো করবে না পোর্টালে। কিন্তু এতদিন মৃত ব্যক্তিদের নামে কিভাবে রেশন সামগ্রী উঠেছে তার কোনও সঠিক জবাব তিনি দিতে পারেননি।

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, রেশন দুর্নীতি হয়েছে বহু বছর ধরে। আর সেই কারণেই মোদীজির নেওয়া এক দেশ এক রেশন কার্ডের বিরোধিতা করে এসেছে এই সরকার। কোর্টের নির্দেশে আধার লিঙ্ক শুরু হতেই তা প্রকাশ্যে এসেছে। লিঙ্ক হয়ে গেলেই বন্ধ হয়ে যাবে সমস্ত চুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *