পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ আগস্ট: সারা দেশে দলিতদের উপর অত্যাচার চলছে৷ বুধবার মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দাঁড়িয়ে এই কথা বললেন তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী৷ তিনি নাম না করে নিশানা করেছেন বিজেপিকে। তাঁর কথায়, বিশেষ একটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসার পরেই দলিতদের উপর অত্যাচার বেড়েছে৷

প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দীর বিরুদ্ধে জাতপাত তুলে কটুক্তি করার অভিযোগ তোলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অমল ভুঁইঞা৷ সেই নিয়েই বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে দলিত সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন৷ সেই প্রতিনিধি দলের সঙ্গেই ছিলেন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী৷ সেখান থেকে বেরিয়েই দলিতদের উপর অত্যাচার নিয়ে তিনি সরব হন। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি তিনি বিধানসভায় তুলবেন বলেও জানিয়েছেন৷

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, অমল ভুঁইঞা ওই রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ মামলা করেছেন কলকাতা হাইকোর্টে৷ তাঁর অভিযোগ, ওই রেজিস্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দী তাঁকে নানা সময় অপমানিত করেছেন৷ জাতপাত তুলে কটুক্তি করেছেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় দায়িত্বে থাকা একাধিক উপাচার্যের কাছেও এই নিয়ে অভিযোগ করেছেন৷ পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছেন, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি৷ পাঁচ বছর ধরে মানসিক যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে তাঁকে রোজ রাতে ঘুমের ওষুধ খেতে হয়েছে৷
আজ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে অমল ভুঁইঞার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিত সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কর্মীরা।
আর এই ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে দলিত সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তাঁরা উপাচার্য সুকান্ত চক্রবর্তীর সঙ্গে এক প্রস্থ বৈঠক করেন। স্মারকলিপি জমা দেন এবং যাওয়ার সময় অমল ভুঁইঞার সঙ্গে দেখা করেন৷ পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কাছেও তাঁর নিরাপত্তার আর্জি জানিয়ে যান। বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী জানান, এই ঘটনা আগামী দিনে তিনি বিধানসভায় তুলবেন৷ পাশাপাশি অমল ভুঁইঞার পাশে তাঁরা থাকবেন। চুনি কোটালের মতো আর কোনও দলিতকে মরতে দেওয়া হবে না৷

অন্যদিকে নমঃশূদ্র ওয়েলফেয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান মুকুল কুমার বৈরাগ্য জানান, প্রয়োজনে এই উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে তাঁরা দিল্লি টেনে নিয়ে যাবেন। জাতীয় তফশিলি কমিশনে ইতিমধ্যে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অমল ভুঁইঞা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থার দাবি জানানো হবে৷
দলিত সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কর্মীদের অভিযোগ, অমল ভুঁইঞা দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও অপমান করছেন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে। তাই তাঁরা অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দীর পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান রেজিস্ট্রার এই ধরনের কাজ করতে পারেন না।

