রায়গঞ্জে বাড়ির লোকজনের উপস্থিতিতেই লুঠপাট চালাল দুষ্কৃতীরা, বাধা দিতে গিয়ে আহত বধূ

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৫ ফেব্রুয়ারি : সন্ধ্যারাতে শহরের জনবহুল এলাকায় বাড়িতে লোকজনের উপস্থিতিতেই লুঠতরাজ চালাল দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জ শহরে।

শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে রায়গঞ্জের কুমারডাঙ্গী এলাকায়। এই এলাকার বাসিন্দা সায়ন দাস পেশায় পৌরসভার কর্মী। তার বাড়িতেই ঘটে এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। জানা যায়, ঘটনার সময় সায়নবাবুর স্ত্রী পুজা সিং দাস, তার দুই ছোট সন্তান ও পরিচারিকা বাড়িতেই ছিলেন। পূজা দেবী জানান, বেশকিছুক্ষণ ধরে বাড়িতে বহিরাগত কারো উপস্থিতি টের পাচ্ছিলেন তিনি। বিষয়টি ফোন মারফৎ তিনি তার স্বামীকেও জানান। এরই মাঝে পূজা দেবী শৌচালয়ে যেতেই দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব শুরু করে। তিনি বেরিয়ে এসে খোঁজাখুঁজি করতেই দুই দুষ্কৃতী ঘর থেকে বেরিয়ে তাকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের ফলে তিনি পড়ে যান। এরপর দুষ্কৃতীরা সর্বস্ব নিয়ে চম্পট দেয়।

এরই মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। দেখা যায় শোবার ঘরের আলমারি ভাঙ্গা। পূজা দেবী জানান, প্রায় ৬৫ গ্রাম সোনার অলংকার ও নগদ দশ হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা।

এদিকে এই ঘটনার জানাজানি হতেই ভিড় জমে যায় সেখানে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। এই ঘটনার জেরে রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, এর আগেও বেশ কয়েকবার ওই এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে এত বড় ঘটনা এই প্রথম। স্থানীয়দের দাবি পার্শ্ববর্তী একটি বাগানের মধ্যে প্রতিনিয়ত সন্ধ্যের পর দুষ্কৃতীদের আসর বসে। যেখানে অসাধু মানুষজনদের আনাগোনা লেগেই থাকে। সেখান থেকেই দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে চুরির ঘটনা ঘটায়। একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও তেমন কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ নজরে আসেনি বলে অভিযোগ এলাকার সাধারণ মানুষের। অবিলম্বে এর স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন পাড়ার মানুষজন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *