আমাদের ভারত, বাসন্তী, ৮ অক্টোবর: দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই নদী বাঁধে ধস নামায় দক্ষিন ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার অন্তর্গত রাধাবল্লভ পুরের বহু বাড়িঘর হোগল নদীতে তলিয়ে গেল। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। শুক্রবার সকাল থেকেই নদীতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ টি বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় শতাধিক বাড়ি।
বাসন্তী ব্লক প্রশাসন সূত্রের খবর, হোগল নদীতে শুক্রবার সকালে অমাবস্যার ভরা কটালের জলের তোড়ে ভাঙ্গন দেখা দেয়। নদীর পশ্চিম পাড়ে ধস নামতে শুরু করলে একের পর এক বাড়ি নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই এলাকার মানুষজন নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে যাদের বাড়ি ঘর নদীতে তলিয়ে গিয়েছে তাঁরা অবশ্য নিজেদের কিছুই প্রায় ঘর থেকে বের করতে পারেননি। কোনওমতে প্রাণ হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বেঁচেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুরথ শেখ, রমজান খান’রা বলেন, “কোনওমতে প্রাণে বেঁচেছি। বাড়িঘর, দরকারি কাগজ, নথি সবই গিলে খেয়েছে নদী। জানি না এবার কোথায় যাবো, কি খাবো, সন্তানের মুখে কী দেবো?”
এলাকার মানুষের অভিযোগ দিনের পর দিন সেচ দফতর এই এলাকায় নদী বাঁধ মেরামতির কাজ করেনি, আর সেই কারণেই বাঁধে ধস নেমেছে। এই এলাকায় কংক্রিটের বাঁধ তৈরির কথা থাকলেও বর্তমানে তার কিছুই হয়নি। এদিন নদী বাঁধে ধস নামার পর স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক, পঞ্চায়েত প্রধান সহ অন্যান্য জন প্রতিনিধিরা এলাকায় এলে দুর্গত মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন। দ্রুত বাঁধ মেরামতির আশ্বাস দিয়ে কোনওমতে নিস্তার পান তাঁরা।

বাসন্তীর বিডিও সৌগত সাহা হলেন, “এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বাঁধে ফাটল ধরেছিল, কিন্তু এভাবে এতো বড় এলাকা নিয়ে ধস নামবে তা বোঝা যায়নি। যাই হোক, সেচ দফতরকে দ্রুত বাঁধ মেরামতির কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার দুর্গত মানুষকে ত্রাণ শিবিরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দা সুরজ শেখ, নবীন মোল্লাদের দাবি, “ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করার কথা ঘোষণা করা হলেও আজ পর্যন্ত তা হয়নি। সেই কারণে এতো মানুষের ক্ষতি হল। আমাদের পুনর্বাসন দিয়ে এই এলাকায় কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করতে হবে।”

