ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত হয়নি, গলসিতে সেচের জলের সঙ্কটে ফেটে চৌচির ধান জমি, মাথায় হাত চাষিদের

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৮ সেপ্টম্বর: জলের তোড়ে ভেঙ্গেছে বাঁধ। অভিযোগ জানিয়েও মেরামত হয়নি। সেচের জল ছাড়লেও জল মিলছে না জমিতে, ভাঙ্গা বাঁধে তা বয়ে চলছে। আর জলের অভাবে ফেটে চৌচির ধান জমি। ধার দেনা করে ধান চাষ করেও মাথায় হাত পড়েছে গলসি-১ নং ব্লকের খাঁ পাড়া, খামারগ্রাম, কোঁদাইপুরের চাষিদের। নতুন করে পাকা বাঁধ তৈরীর দাবিতে সরব চাষিরা।

কাফরেন বাঁধ। গলসি-১ নং ব্লকের খাঁ পাড়া, খামার গ্রাম, কোঁদাইপুর মৌজায় এই বাঁধের সেচের জলে নির্ভরশীল প্রায় হাজার একর চাষ জমি। বছরে দু’বার ধান চাষ হয় ওই দুই মৌজার জমিতে। মানকর পিভিসি সেচ ক্যানেল থেকে শাখা বেরিয়ে সোজা চলে গিয়েছে খাঁ পাড়া, খামারগ্রাম, কোঁদাইপুর এলাকায়। সেখানেই রয়েছে কাফরেন বাঁধ। প্রায় প্রতিবছরই বল্লি ও বালি-মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধানো হয় বাঁধটি। চলতি বছর মাসখানেক আগে মাটির বস্তা দিয়ে গ্রামবাসীরা বাঁধটি মেরামত করে। কিন্তু, ভারি বৃষ্টিতে আবারও জলের তোড়ে সেই বাঁধ ভেঙ্গে যায়। চাষিদের অভিযোগ, “জলের চাপ খুবই। তার ফলে অস্থায়ীভাবে মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধানোয় বাঁধ টেকসই হয়নি। গত বছর খারিফ মরশুমে দুবার বাঁধটি বাঁধানো হয়েছিল। কিন্তু জলের তোড়ে ভেঙ্গে যায়। চলতি বছর গ্রামের সকলে উদ্যোগ নিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধিয়েছিলাম। বৃষ্টি জলের তোড়ে ওই বাঁধও ভেঙ্গে চলে যায়।”

চাষিদের অভিযোগ, সেচ দফতরে ভাঙ্গা বাঁধ মেরামতের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু, সুরাহা হয়নি। চলতি মরশুমে বৃষ্টি সেভাবে হয়নি। তার দরুন সেচের জল দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু বাঁধ মেরামত না হওয়ায় সেচের জল জমিতে আসছে না। নালার মাধ্যমে বয়ে চলছে। সেচের জল দেওয়া স্বত্বেও ওই জল কার্যত আমাদের কোনো কাজে লাগছে না। 

জলের অভাবে প্রায় ৫০০ একরের বেশি ধান জমি ফেটে চৌচির।” চাষিরা জানান, “ধার দেনা করে চাষ করেও দুশ্চিন্তায় পড়েছি। এসময় ধানের থোড় হয়। এখন জলে টান পড়লে আর ফলন হবে না। মাঠ ভর্তি ধান নষ্ট হবে। খরচ করে চাষ করে লোকসান হবে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ওই বাঁধটি পাকাপাকি বাঁধানোর দাবি জানাচ্ছি।”

প্রশ্ন, চলতি বছর জল সঙ্কট রয়েছে। রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার কথা বার বার বলছেন  মুখ্যমন্ত্রী। তখন আবেদন করার পরও গুরুত্বপূর্ণ ওই বাঁধ কেন বাঁধানো হল না? উঠেছে প্রশ্ন।

যদিও  ওই এলাকার পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ সদস্য পরেশ পাল বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচ দফতর থেকে বাঁধটি মজবুত করে বাঁধানো হবে। তার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *