পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর, ২ নভেম্বর: পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার শুরু করে দিল সিপিএম। গতকাল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আটটি জায়গা থেকে পদযাত্রা করে সিপিএম কর্মী সমর্থকরা। সব মিলিয়ে ৫২টি বুথের ৭৬টি গ্রামের মধ্য দিয়ে মোট ৮৭ কিমি পথ অতিক্রম করে মিছিলগুলি। মিছিলের শ্লোগান ছিল, “গ্রাম জাগাও চোর তাড়াও।”
পিংলায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ কিমি পথে ২৬ টি মৌজার ১৪টি বুথ এলাকার মধ্য দিয়ে এই পদযাত্রা হয়। “গ্রাম জাগাও চোর তাড়াও” শ্লোগানে এবং জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার সংগ্রাম সহ সাধারণ মানুষের পঞ্চায়েত গড়ার বার্তা দিয়ে এই মিছিল হয়।
পিংলার কুসুমদা গ্রামপঞ্চায়েত জুড়ে মিছিল হয়। নেতৃত্বের বক্তব্য, সাহস করে রাস্তায় নামলেই চোর তোলাবাজরা গা ঢাকা দেওয়ার জায়গা পাবে না। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুলিশ প্রসাশনের সামনেই ব্লক দপ্তর দখল করে মনোনয়নপত্র জমা করতে দেওয়া হয়নি সিপিআইএম প্রার্থীদের। কেবল মাত্র কুসুমদা বুথের দিন মজুর মহিলা দোলন সিং ছেঁড়া কাপড় পরে তৃণমূলের নজর এড়িয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে আর গ্রামে ফিরেননি। তিনি দিন মজুরী করতে চলে যান বাইরে। কোনো প্রচার, ব্যানার ছাড়াই ভোটের দিন ভোর রাতে প্রার্থী সহ এলাকার পার্টি নেতা কালি মান্ডি সহ কর্মীরা হাজির হেন বুথে। তাতেই ভোটের ফল প্রকাশ হলে সিপিআইএম এর প্রার্থী দোলন সিং শতাধিক ভোটে জয়ী হয়। এবারে আর তা হবে না। চোর তাড়াতে প্রতি বুথেই প্রার্থী দেবে সিপিআইএম।

এদিন পুরো কুসুমদা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ১৩টি বুথকে তোলপাড় করে মিছিলের নেতৃত্ব দিলেন দোলন সিং, কালিপদ মান্ডি, জগন্নাথ ঘোড়াই, নাসিমা বিবিরা। অলি গলি পথ সহ পাড়ার মধ্য দিয়ে মিছিল হয়। এক গ্রাম থেকে মিছিল যায় অন্যগ্রামে। মিছিলের মাঝে নয়টি জয়গায় পথ সভা হয়। পথসভায় তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলকেই আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় নেতারা। বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক গোপাল প্রামানিক।

গ্রাম জাগাও চোর তাড়াও শ্লোগানে পদযাত্রা হয় ঘাটাল ব্লকের সিংপুর থেকে বীরসিংহ এবং চাউলি থেকে গড় প্রতাবনগর। দাসপুর ২ ব্লকের চাঁইপাট জিপির চাকিরহাট থেকে পায়রাশি। সবং এর সার্তা জিপির নেধুয়া থেকে সার্তা বাজার, মেদিনীপুর সদর ব্লকের গোপগড় থেকে কংকাবতী।
জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যা, কৃষকের পাকা ধান ওঠার সময় অভাবী বিক্রি শুরুর আগে ধান কেনার কেন্দ্রীয় ঘোষণা সহ সহজ প্রক্রিয়ার সরকারী মূল্যে ধান কেনার গ্যারান্টি এবং অবিলম্বে সমস্ত জব কার্ড হোল্ডারদের কাজ চালু সহ বকেয়া মজুরী মেটানো দাবি করা হয় মিছিল থেকে।

