আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৬ নভেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে বাম ও তৃণমূলের ‘ব্যর্থতার’ পাশাপাশি বিজেপি-র সাফল্যের অভাব নিয়ে ফের মন্তব্য করলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। বিজেপির নতুন পুরনোর দ্বন্দ্বেরও সমালোচনা করছেন। বৃহস্পতিবার তিনি এ সম্পর্কে লিখলেন তাঁর এক্স হ্যাণ্ডেলে। তথাগতবাবুর মতে, বাঙালি হিন্দুকে সিপিএম এক দাবিসর্বস্ব জাতিতে পরিণত করেছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে এক ভিখারীর জাতে পরিণত করল।
তথাগতবাবু লিখেছেন, “সিপিএম বাঙালি হিন্দুকে এক কর্মবিমুখ, খেঁকুরে, মিটিং-মিছিলবাজ, দাবিসর্বস্ব জাতিতে পরিণত করেছিল।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তথাগতবাবু বরাবরই সিপিএমের মেধাবী ছাত্রী বলে সম্বোধন করেন। তাই তিনি মমতাকে সিপিএমের মেধাবী ছাত্রী বলে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার লিখেছেন, “তাদের (সিপিএম) মেধাবী ছাত্রী তাকে (হিন্দু বাঙালিকে) এক ভিখারীর জাতে পরিণত করল।”
এই প্রসঙ্গে তথাগতবাবু বিজেপিরও সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আর যে পার্টি (বিজেপি) তাদের এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারত তারা এক অন্তর্মুখী, জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্কহীন, উদ্যমহীন দলে পরিণত হয়েছে।”
তিনি লিখেছেন, “আমি বিজেপিকে সাপোর্ট করছি। জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে গেলে দলের কার্যকর্তারা এইভাবে নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করে।”
পাশাপাশি বিজেপি-র নতুন বনাম পুরনো কর্মীদের বিরোধ নিয়েও ফের মন্তব্য করেছন। এক্স হ্যাণ্ডেলে শ্যামল ভৌমিক নামে এক বিজেপি কর্মী লিখেছেন, “পুরাতন কর্মীরা দক্ষ ছিল না। তারা রাজ্যর প্রাপ্য টাকা আটকে দিতে পারেনি!! তারা সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত শেষ করে দুর্নীতির সপক্ষে যথাযথ চার্জশিট আদালতে পেশ করাতে পারবে না বলে মন্ত্রী–নেতাদের জেলে ঢুকিয়ে মানুষকে ক্ষুব্ধ করতে পারেনি! নতুনরা পেরেছে। জয় অবশ্যম্ভাবী!”
এর প্রেক্ষিতেই তথাগতবাবু লিখেছেন, “তাহলে সব চেষ্টা ছেড়ে দিয়ে পার্টি তুলে দিক! পুরোটা পারব না, অতএব কিছুই করব না, এ এক মারাত্মক ব্যাধি! যখন বিজেপির প্রতিটি আসনে জামানত জব্দ হত, তখনও কর্মীরা পরিশ্রম করেছিলেন বলেই ২০১৯ সালে ১৮টা সিট বেরিয়েছিল। সেই কর্মীরা আজ ব্রাত্য, তার ফলও দেখা যাচ্ছে।

