দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বীরভূমের মুরারইয়ে সিপিএম নেতা কর্মীদের মারধর

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৭ আগস্ট: নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে সিপিএমকে সভা করতে দিল না তৃণমূল। মারধর করে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে শূন্য পাওয়া দলকে। তাদের অপরাধ গরিব শ্রমিকের জালিয়াতি করে ‘ঘরচুরি’র প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল তারা। তৃণমূল মাতব্বরদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধী মেজাজ নিয়ে রুখেও দাঁড়িয়েছেন সিপিএম কর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিছু হঠতে হয় তাদের। ঘটনা বীরভূমের মুরারই ২ নম্বর ব্লকের আমডোল পঞ্চায়েতের লম্বাপাড়া গ্রামের।

ওই গ্রাম লাগোয়া শিবরামপুরের বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি আনারুল শেখের আবাস যোজনার বাড়ি অনুমোদনের রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর চার বছর কেটে গেলেও বাড়ি না মেলায় খোঁজ খবর করতেই বেরিয়ে আসে জোচ্চুরির ঘটনা। সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নথি বের করতেই দেখা যায় সুপরিকল্পিত দূর্নীতি করেছে ধুরন্ধর তৃণমূল নেতারা। আনারুল শেখের আইডি নম্বর ব্যবহার করেছে কিন্তু জব কার্ড নম্বর সংযুক্ত করা হয়েছে মহম্মদ আনারুল নামে অপর একজনের। সে তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ট।

ব্লক প্রশাসনেরই এক কর্মী জানিয়েছেন, “আইডি আনারুল শেখের থাকলেও কৌশল করে নামের সামান্য হেরফেরের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মহম্মদ আনারুলের পরিবারের জবকার্ড তাতে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বাড়ির ১ লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা ও একশো দিনের কাজের প্রকল্পে বাড়ি নির্মানের জন্য ৯০ দিন শ্রমের মজুরি জবকার্ডের সাথে সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকার নিয়ম রয়েছে”। এলাকার মানুষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই কান্ড তৃণমূলের লোকেরা শুধু শুধু করেনি। নিশ্চিতভাবেই মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ পেতেই এলাকায় বেশ শোরগোল পড়ে যায়।

বঞ্চিত আনারুল শেখ বিডিও’র কাছে এর বিহিত চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। মহকুমা শাসকের কাছেও অভিযোগ পত্র পাঠান। বেগতিক বুঝে তৃণমূল নেতারা আসরে নেমে গরিব আনারুলকে অন্য প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ের দেওয়ার টোপ দিতে শুরু করে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার লম্বাপাড়া গ্রামে সিপিএমের পক্ষ থেকে এক গ্রাম্য সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই সভার কাজ শুরু হতেই এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী তথা কেতাবুল শেখের নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকজন আচমকা হামলা চালায়। রুখে দাঁড়ান সিপিএম কর্মীরাও। তারাও জেদ ধরে সভা করার। এরপরই শুরু হয় হামলা। মাইকের স্ট্যান্ড ফেলে দেওয়া হয়। মাইক্রোফোন দিয়ে আঘাত করা হয় সিপিএম নেতা মহম্মদ কামাল উদ্দীনকে। প্রতিবাদ করলে তৃণমূলের লোকজন চড়াও হয়ে কিল ঘুষি চালায় সিপিএম কর্মী কবির শেখকে।

সিপিএম নেতা মহম্মদ কামালউদ্দীন জানিয়েছেন, “জালিয়াতি করেছে বলেই তো সেই জালিয়াতির প্রতিবাদ সভায় তৃণমূলের গা জ্বলে গেছে। আক্রমন চালিয়েছে। হতদরিদ্র গরিব মানুষের প্রাপ্য মেরে সেই গরিব মানুষের পাশে যারা দাঁড়াতে চাইছে তাদের উপর হামলা চালাচ্ছে”। তৃণমূলীদের এই হামলার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতা কেতাবুল সেখের নেতৃত্বেই হয়ে হামলা। অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেতাবুল। উল্টে সাজানো অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে সে। বলেছে, “দুয়ারে সরকার চলছিল। তাই সভা করতে বারণ করা হয়েছিল। না শুনে সিপিএমের লোকেরা বোম, পিস্তল নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ করব”। এই বক্তব্যেই পরিস্কার মিথ্যা মামলা সাজিয়ে পুলিশকে দিয়ে এলাকার সিপিএম নেতাকর্মীদের হেনস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *