অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৫ এপ্রিল: পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস এবং সমমতাবলম্বী হিন্দু সংগঠনগুলির কার্যকলাপের উপর নজরদারি করতে কোমড় বেঁধে নামল সিপিএম। কেন্দ্রীয়স্তরে অবশ্য অনেক আগেই এই নজরদারি শুরু করেছে। এবার রাজ্যস্তরেও শুরু করল। হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর মোকাবিলার জন্য তাদের খবরাখবর যোগাড় করতে একেবারে গোয়েন্দার ভূমিকায় নামাল একদল তরুণ তূর্কি নেতাকে।
কলকাতায় সদ্য শেষ হওয়া পার্টির দুই দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে তার সমাপনী বক্তব্যের সময় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম “হিন্দুত্ব নজরদারি গোষ্ঠী”র ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এতদিন বাংলায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিজে থেকেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির খবর সংগ্রহ করতেন। এখন থেকে সেই কাজটা পরিকল্পনা মাফিক করতে হবে। সেই জন্যই বিশেষ টিম তৈরি করা হল।
সেলিম বলেছেন, “আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আমরা জাতীয় স্তরের পাশাপাশি সমস্ত রাজ্যে এই জাতীয় সংস্থা তৈরি করব। বাংলায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিজ নিজ যোগ্যতায় এই কাজটি করছেন। এখন, আমরা আরও গুছিয়ে কাজ করব।”
সেলিম বলেন, বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি যে মমতা যখন ২০১১ সালে রাজ্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন বাংলায় আরএসএসের প্রায় ৭০০ ‘শাখা’ ছিল। এই সংখ্যা বর্তমানে অনেক বেড়েছে। শুধু তাই নয়, “আরএসএস এবং এর সহযোগীরা ঘৃণা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক হিংসাকে সহজতর করার উপায় তৈরি করছে। এটা আমাদের দল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মোকাবিলা করবে।”
আরএসএস সূত্রেও মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। আরএসএস সূত্র জানিয়েছে, গত এক দশকে বাংলায় সংঘের দ্রুত প্রসার ঘটেছে। এই বছরের মার্চ মাসে, সংগঠনটি সারা বাংলায় ১,৬৬৪টি দৈনিক সভা বা ‘শাখা’ পরিচালনা করেছে। এক বছর আগে, এটি ১,৫৪৯ ছিল। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে সিপিএম বাংলায় সঙ্ঘ পরিবারের বাড়বাড়ন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির পদ্ধতিকে দায়ী করে আসছে।
আরএসএসের এই শক্তি বৃদ্ধিই সিপিএমের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সিপিএম মনে করে আরএসএসের শক্তি বৃদ্ধি মানে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি। তাদের ধারণা আরএসএস-ই বিজেপির মূল চালিকা শক্তি। তাই আরএসএসের মোকাবিলায় তারা কোমড় বেঁধে নামছে। এজন্য তাদের দরকার আরএসএস সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের খবরাখবর। বর্তমানে তারা এই খবর সংগ্রহের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে। এজন্য তৈরি করা হয়েছে ৪ সদস্যের বিশেষ টিম। সূত্রের খবর, সিপিএম-এর চার তরুণ তূর্কিনেতা কলতান দাশগুপ্ত, সোমনাথ ভট্টাচার্য, সত্যজিৎ ব্যানার্জি আর মধুজা সেনরায়’কে নিয়ে এই বিশেষ টিম তৈরি হয়েছে। এই ৪ জনকে দলের তরফে আরএসএস-সহ হিন্দুত্ববাদীদের কার্যকলাপ ও তার প্রসারের ওপর নজর রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন হিন্দু সংহতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমানে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য দেবতনু ভট্টাচার্য। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ”সিপিএম এখন অস্তিত্বের সংকটে। কীভাবে ওরা বেঁচে থাকবে তার জন্য বরং চিন্তা ভাবনা করুক। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে হিন্দুত্ববাদীরা যথেষ্ট শক্তিশালী। এদের পিছনে লাগতে যাওয়া মানে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনা- এটা সিপিএমের বোঝা উচিত।” এই হুমকির পাশাপাশি দেবতনুবাবু প্রশ্ন তুলেছেন, “শুধু হিন্দুত্ব ওয়াচ গ্রুপ কেন? ইসলামিক জেহাদ ওয়াচ গ্রুপ নয় কেন? মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে দল চলছে বলে?“
অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি (পশ্চিমবঙ্গ) চন্দ্রচূড় গোস্বামী এই প্রতিবেদককে বলেন, “সিপিএম পার্টি শুধু হিন্দুত্বকে কাউন্টার করতে চায় কেনো বুঝি না, অন্যান্য ধর্মীয় মৌলবাদকে-ও কাউন্টার করার সৎ সাহস দেখাক। কারণ ওরা ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে সুবোধ সরকারকে গরুর মাংস খাওয়াতে পারলেও মোহাম্মদ সেলিমকে শুয়োরের মাংস খাওয়াতে পারেনি। তাই মানুষ আর ওদের বিশ্বাস করে না।
সৌজন্যে হিন্দুস্থান সমাচার।

