খনি কর্তৃপক্ষের প্রতারণার অভিযোগে বড়জোড়ার ট্রান্স দামোদর কোলিয়ারিতে ধর্না- অবস্থানে সিপিএম

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৩ জুন: এলাকার কৃষক, ক্ষেতমজুর ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ প্রতারণা করছে এই অভিযোগ তুলে আজ সকাল থেকে কোলিয়ারির গেটের সামনে ধর্না অবস্থানে বসেন সিপিআইএম নেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী দেবলীনা হেমব্রম। ঘটনাটি বড়জোড়া ব্লকের চুনপোড়ার ট্রান্স দামোদর খোলামুখ কয়লা খনিতে। সিপিআইএম দলের বড়জোড়া এরিয়া কমিটির ডাকে এই ধর্না অবস্থানে উপস্থিত ছিলেন দেবলীনা দেবী ও প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী।

দেবলীনা হেমব্রম বলেন, ২০০৬ সালে এখানে খোলামুখ কোলিয়ারির জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করে বামফ্রন্ট সরকার। সেই সময় সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনকারী তৃণমূল যেভাবে টাটাকে তাড়াতে সক্রিয় হয়েছিল এখানেও যাতে কোলিয়ারি না হয় তার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। কিন্তু এখানের মানুষ তা হতে দেয়নি। সেই সময় এই কোলিয়ারির দায়িত্ব পায় ডাবলুবিএমডিটিসি। বামফ্রন্ট সরকার কৃষকদের জমির দাম, পুনর্বাসনের প্যাকেজ ও অধিগৃহীত জমির ক্ষেতমজুরদের জন্য এককালীন ৫০০ দিনের মজুরির প্যাকেজ ঘোষণা করে। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর কোলিয়ারির কাজ শুরু হয়। ২০১৩ থেকে কয়লা উত্তোলনও হতে থাকে। কিন্তু তৃণমূল সরকার বামফ্রন্টের তৈরি করা প্যাকেজ দিতে দেয়নি খনি কর্তৃপক্ষকে। ২০১৬ সালে ওই সংস্থাকে বাতিল করার পর খনির দায়িত্ব পায় ডিপিএল বা দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড। কৃষক, ক্ষেতমজুর ও এলাকাবাসীকে প্রতারণা করে চলেছে এই সংস্থাটিও বলে দাবি করেন দেবলীনা হেমব্রম । তিনি বলেন, সে কারণে আজ আমরা দাবি-দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দিতে এসেছিলাম। কিন্তু গেটে ঢুকতে দেওয়া হয়নি আমাদের। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কাজ হারানো ক্ষেতমজুররা গেট আটকে ধরনায় বসে পড়েছেন।

প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তীর দাবি, তিনি এলাকার ক্ষেতমজুর ও কৃষকদের ন্যায্য প্যাকেজ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে বারবার সোচ্চার হয়েছেন বিধানসভায়। কিন্তু শাসকদল আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। আমি লিখিতভাবেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি বহুবার। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেনি। দলের বড়জোড়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুজয় চৌধুরী বলেন, আমাদের দাবি ক্ষেতমজুরদের এককালীন ৫০০ দিনের মজুরি দেওয়ার দাবির তালিকা স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করতে হবে। জমি হারাদের স্থায়ী চাকরি ও কর্মরত শ্রমিকদের বেতন কাঠামো তৈরী করে মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে আজও পর্যন্ত কোনো কাজ করেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি। অন্যদিকে পুনর্বাসন ও অধিকৃত জমির সংলগ্ন জমি অকৃষিতে পরিণত করেছে তার দ্রুত সমাধান চাই। এইসব বঞ্চিত মানুষদের দাবি পূরণ না হলে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।

এ বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলক মুখার্জী বলেন,
সিপিআইএমের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন, তারা অসত্য কথা প্রচার করছে। বামফ্রন্ট সরকার ২০০৬ সালে জমি অধিগ্রহণ করে জমির যে মূল্যায়ন করেছিলেন আমাদের সরকার আসার পর সেই জমির দাম কয়েক গুণ বেশি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই সব নাটক করছে ওরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *