আমাদের ভারত, ১১ জুলাই: ভোট গণনা শুরু হতেই দেখা গেছে তৃণমূলের দাপট। আর গণনা যত এগিয়েছে তত স্পষ্ট হয়েছে তৃণমূলের জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তবে বেশ কিছু জায়গায় বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য ফল করেছে। কিন্তু বিরোধীরা সে অর্থে লড়াই করে উঠতে পারেনি বলে অনেকেই দাবি করেছেন। আর এই পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য সিপিএমকেই দায়ী করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, ভোট কেটে কার্যত তৃণমূলকে জিতিয়ে দিয়েছে সিপিএম’ই। তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে বোঝা পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সুকান্ত।
পঞ্চায়েতে নিচু তলায় বহু ক্ষেত্রে সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির সমঝোতা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের গণনা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নিশানা করলেন সিপিএমকেই। তিনি বলেন, সিপিএম’ই তৃণমূলকে জিতিয়ে দিয়েছে। সুকান্তর কথায় সিপিএম ও তৃণমূলের বোঝাপড়া ছিল। সিপিএম বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৬- ৮% ভোট পেয়ে তৃণমূলকে জিতিয়ে দিয়েছে। সিপিএম ভোট পাওয়ায় তৃণমূলের সুবিধা হয়েছে। ফলে সামান্য ব্যবধানে বিজেপি হেরেছে।সুকান্তর দাবি, খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে বিজেপির হার নেহাত কম আসনে হয়নি।
উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে গিয়ে বিজেপি রাজ্য দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করেন। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি সিপিএমকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল এক নম্বরে রয়েছে, আর বিজেপি দু’নম্বরে। আর সেটা হয়েছে একমাত্র সিপিএমের কল্যাণে। সিপিএম ভোট কেটে সুবিধা করে দিয়েছে তৃণমূলের।
বেশিরভাগ জেলাতে তৃণমূল এক নম্বরে আর দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়াই করেছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, এআইএসএফ। ফলে সুকান্ত মজুমদারের দাবিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে নারাজ বামেরা। কারণ তারা বহু ক্ষেত্রে বিজেপিকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। সেখানে সিপিএমের সহযোগিতার কোনো প্রশ্ন নেই বলেই দাবি করেছেন বাম নেতারা।

