সিপিএম শিক্ষিত চোর, এদের চুরি ধরা যায় না আর তৃণমূল অশিক্ষিত চোর, সবার সামনে চুরি করে ধরা পড়ে যায়: সুকান্ত মজুমদার

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৮ সেপ্টেম্বর: সিএএ হবেই, কেউ ঠেকাতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা নেই সিএএ আটকাবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যসভা ও লোকসভায় সিএএ আইন পাস হয়েছে। দেশজুড়ে তা লাগু হবে। বাংলাতেও তা কার্যকর হবে। তা না হলে লোকসভা ও রাজ্যসভার কোনো গুরুত্ব থাকবে না। সিএএ নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। কেড়ে নেওয়ার আইন নয়। মুখ্যমন্ত্রী অহেতুক বাজার গরম করছেন। সংখ্যালঘুদের মিথ্যে কথা বলছেন। এই আইন কার্যকর হলে কিছু লোকের লাভ হবে। ক্ষতি কারো হবে না। মঙ্গলবার রায়গঞ্জে দলীয় কর্মসূচিতে এসে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার৷

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুকান্ত মজুমদার বলেন, গোটা রাজ্য এখন জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। কোথাও বোম, কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। পঞ্চায়েত ভোট যত এগিয়ে আসবে তত এসবের রপ্তানি বাড়বে। আগে বিহারের মুঙ্গের থেকে এসব আমদানি হত। এখন গোটা পশ্চিমবঙ্গটাই মুঙ্গের হয়ে গেছে।

হাড়োয়ার যুবক জন্মু-কাশ্মীরের আলকায়দা জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার জঙ্গিপনায় অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। বছর তিনেক আগে ইটাহার থেকে ৩ জঙ্গিকে এনআইএ ধরেছিল। আর এই সমস্ত কার্যকলাপের কারণেই গোটা দেশে পিএফআইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু দুভার্গ্যের বিষয়, রাজ্য সরকার পিএফআইকে ধরতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

এদিকে গতকাল রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে ২৬৮ জনকে চাকরিতে যে পুনর্বহাল করার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে যাদের চাকরি হয়েছিল তাদের চাকরি চলে গেলে, যে সমস্ত তৃণমূল নেতারা টাকা নিয়েছিলেন তাদের পিঠের চামড়া থাকবে না। সেই ভয়েই ওই ছেলেমেয়েদের চাকরিতে পুনরায় নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সির জালে গ্রেফতার অনুব্রত মণ্ডলের লটারি রহস্য নিয়েও তৃণমূলকে তোপ দাগেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পাশাপাশি রাজ্য ভাগ বা আলাদা উত্তরবঙ্গ গঠন নিয়েও তিনি পরিষ্কার জানান, এসবের খবর তার জানা নেই। অপরদিকে, সিপিআইএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিপিএম ধোয়া তুলসি পাতা নয়, এরা বড় চোর শিক্ষিত চোর, এদের চুরি ধরতে পারা যায় না। আর তৃণমূল হল অশিক্ষিত চোর, সবার সামনে চুরি করে ধরা পড়ে যায়। জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটে বামেদের জোট গড়া প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, এসএফআই এবং পিএফআই দুটো দলই এক। এরা দেশ ভাঙার চক্রান্তের সাথে যুক্ত। এরা ভারতকে ইসলামিক দেশে তৈরি করার প্রবনতা দেখাচ্ছে। তাই সিপিএমের সাথে বিজেপির কোনওদিনই জোট হবে না। তিনি সিপিএম দলকে কটাক্ষ করে বড় চোর বলে আখ্যা দেন।

সুকান্তবাবু উদাহরণ দিয়ে বলেন, বর্তমানে জেলে থাকা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য ত্রিপুরার সিপিএমের কোর কমিটির সদস্য ছিলেন, বর্তমান তৃণমূল নেতা পরেশ অধিকারী বামফ্রন্টের নেতা ছিলেন। এরা সবাই সিপিএম থেকে তৃণমূলে গিয়েছে। অতএব বামেদের সাথে বিজেপির জোটের কোনও সম্ভাবনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *