আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৯ জুলাই: ছাপ্পাতে বাধা দেওয়ায় প্রার্থী এবং তাঁর পরিবারকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রামপুরহাট পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাউন্সিলর রসিদা খাতুনের স্বামী ওয়াসিম আলি ওরফে ভিক্টরের নেতৃত্বে মারধর করা হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিক্টর। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের দখলবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে।
ওই পঞ্চায়েতের ১১ নম্বর আসনে জয়কৃষ্ণপুর সংসদ থেকে সিপিএম প্রার্থী হয়েছিলেন জাসমিনারা বেগম। ওই সংসদের ভোট কেন্দ্র হয়েছিল দিঘিরপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জাসমিনারার অভিযোগ, পুরসভা এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম আলি ওরফে ভিক্টর ওই বুথে গিয়ে ছাপ্পা মারার চেষ্টা করে। কিন্তু গ্রামের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে ছাপ্পা মারার সুযোগ পায়নি। কিন্তু ভোট মিটতেই ভিক্টরের নেতৃত্বে স্বামী মহম্মদ আফসারুল ইসলাম এবং ছেলেকে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। এরই প্রতিবাদে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত রামপুরহাট দিঘিরপাড় মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন সিপিএম কর্মী সমর্থকরা। রাতে আফসারুল ফিরে এলে অবরোধ তুলে নেন সিপিএম কর্মী সমর্থকরা।

জাসমিনারা বলেন, “ভিক্টরের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী একাধিকবার বুথ দখল করে ছাপ্পা মারার চেষ্টা করে। কিন্তু গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে তারা পিছু হঠে। ভোট শেষে রাতে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়ার সময় ভিক্টর স্বামীকে মারধর করে। এরপর স্বামীকে অপহরণ করে নিয়ে চলে যায়”।
যদিও আফসারুল বলেন, “অপহরণ করেনি। আমি ব্যালট বাক্স সুরক্ষিত রাখতে ভোট কর্মীদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। তবে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে”। রাতেই তাকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আফসারুলের প্রশ্ন, পুরসভা এলাকার তৃণমূল নেতারা পঞ্চায়েত ভোটে আসবে কেন? আমরা বার বার পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে রাস্তা অবরোধ চলাকালীন হাতের কাছে পেয়ে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন রামপুরহাট কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নীলদীপ মণ্ডলকে মারধর করে অবরোধকারীরা। তাকে পুলিশ উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ভিক্টর বলেন, “ওরাই ছাপ্পা মারার চেষ্টা করে। আমাদের ছেলেরা প্রতিরোধ গড়ে। উনাকে অপহরণ করা হয়নি। উল্টে আমাদের ছেলেকেই মারধর করা হয়েছে”।
এইনিয়ে সিপিএম প্রার্থী জাসমিনারা বেগম রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

