আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২ মার্চ : জেল থেকেই জয়ী হলেন বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব মল্লিক। তিনিই বীরভূম জেলার একমাত্র বিরোধী মুখ হিসাবে জয়ী হয়েছেন।
১৮ আসনের রামপুরহাট পুরসভায় ৫ টি আসনে আগেই জয়লাভ করেছিল তৃণমূল। বাকি ১৩ টি আসনে নির্বাচন হয়। তার মধ্যে শুধুমাত্র ১৭ নম্বর ওয়ার্ডটি দখল করেছে সিপিএম। ১৫৩ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল মালেককে হারিয়ে দেন তিনি। ভোটের দিন ওয়ার্ডের অমল স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩৭ নম্বর বুথে ছাপ্পা ভোট আটকাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে প্রহৃত হন সঞ্জীব মল্লিক। সেই বুথেই ইভিএম মেশিন ভাঙ্গচুর করা হয়। প্রিসাইডিং অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সঞ্জীবকে গ্রেফতার করে। ভোট গণনার সময় তিনি ছিলেন রামপুরহাট জেল হেফাজতে। দুপুরের দিকে পুলিশের পেশ করা কেস ডায়েরির ভিত্তিতে রামপুরহাট মহকুমা আদালতের বিচারক তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেয়।
সঞ্জীব মল্লিকের স্ত্রী ডালিয়া মল্লিক বলেন, “এই জয় মানুষের জয়। তৃণমূল সন্ত্রাস করেও জয় আটকাতে পারেনি। স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠাল। তারপর দেদার ছাপ্পা দিয়েও জয় আটকাতে পারেনি”।
আইনজীবী সত্য ভট্টাচার্য বলেন, “এলাকার মানুষ সন্ত্রাস চায় না। তাছাড়া সঞ্জীব মল্লিককে ডাকলেই মানুষ কাছে পায়। ছেলেটা পাশে থাকতে কোন দল দেখে না। দিন রাত পরিষেবা দেয়। মানুষ বিপদে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে দেখভাল করে সে। তাই ওয়ার্ডের সব দলের মানুষ তাকে ভোট দেয়। ছাপ্পা দিয়ে তাকে হারানো যাবে না”।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সঞ্জীব বর্মণ বলেন, “মানুষ সঞ্জীব মল্লিকের সঙ্গে আছে এটা আবার প্রমাণ হল। শাসক দলের দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, ছাপ্পা, তৃণমূলের পক্ষ নিয়ে পুলিশ দালালি করেও আমাদের প্রার্থীদের হারাতে পারেনি”।
ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা দলীয় স্তরে তদন্ত করে দেখব কেন ওই ওয়ার্ডে পরাজয় হল”।

