গরু ভারতের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক, রায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের

গরু ভারতের সংস্কৃতি। তাই সেই সংস্কৃতি রক্ষার দায় ধর্ম নির্বিশেষে এদেশে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের।
আমাদের ভারত, ২ সেপ্টেম্বর:
গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা উচিত। গরু ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অভিমত জানিয়ে উত্তরপ্রদেশে গোহত্যা আইনে অভিযুক্ত জনৈক জাবেদের জামিনের আবেদন নাকচ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি শেখর কুমার যাদব বুধবার গরুকে মৌলিক অধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের সংসদে বিল পাস করা উচিত বলেও জানিয়েছেন। যারা গরুর ক্ষতি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইন চালু করার কথা বলেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি।

বিচারপতি বলেন, গোরক্ষা শুধু একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়। গরু ভারতের সংস্কৃতি। তাই সেই সংস্কৃতি রক্ষার দায় ধর্ম নির্বিশেষে এদেশে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের। হাইকোর্টের বিচারপতি আজ মন্তব্য করেছেন, একমাত্র গরু সম্মান পেলেই দেশের সমৃদ্ধি হবে। বিচারপতি নিজের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, বিশ্বে ভারত একমাত্র দেশ যেখানে ভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে, যারা নানা পদ্ধতি, ভিন্ন কায়দায় পূজা প্রার্থনা করে কিন্তু দেশের জন্য তাদের সবার ভাবনা এক অভিন্ন। জাভেদ গোরক্ষা আইনের ৩, ৫, ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে অভিযুক্ত। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। বিচারপতি বলেন, অভিযুক্ত এর আগেও একই ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল। তাই সে জামিন পেলে সামগ্রিকভাবে সমাজে সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।

দেশের গোশালাগুলির কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তাঁর কথায় সরকার গোশালা তৈরি করে কিন্তু গরুদের দেখভাল এবং যত্ন যাদের করার কথা তারা দায়িত্ব পালন করে না। বেসরকারি গোশালাগুলির দশাও করুন। সেগুলি যারা চালায় তারা সাধারণ লোকজন, সরকারের কাছ থেকে গোরক্ষার নামে চাঁদা তোলেন কিন্তু গরুর সেবা-যত্ন করেন না। সেই টাকা নিজেদের স্বার্থে খরচ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *