আমাদের ভারত, ১৮ এপ্রিল: আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। তার মধ্যে বাংলায় চলছে ভোট প্রচারে ঝড়। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা। পশ্চিমবঙ্গে করোনা বিপদকে ঠেকাতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। গত ২৪ ঘন্টায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশিত রিপোর্টে টনক নড়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের। কোনওভাবেই আর বসে থাকা চলবে না। ভোট, চৈত্র সেল সহ একাধিক উৎসবের কারণে করোনা এতদিন ব্যাকস্টেজে পড়েছিল। দেশের অন্যান্য রাজ্য যখন করোনা নিয়ে তটস্থ তখন পশ্চিমবঙ্গে করোনা বিপদকে একবারেই তোয়াক্কা করেনি। ভোটের প্রচার চৈত্র সেল এর বাজার সবাই চলেছে রমরমিয়ে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রাজ্যে ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৩৪। শুধু কলকাতাতেই সংক্রমিতের সংখ্যা পেরিয়ে গেছে ২ হাজারের গণ্ডী। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই রাজ্য সরকার ১১ দফার নির্দেশিকা জারি করেছে।
১১ দফার নির্দেশিকায় রাজ্য সরকার বলেছে…..
* জনবহুল এলাকা ও পরিবহনে যাত্রা করার সময় মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব বিধি মেনে চলতেই হবে। এই সবকিছু মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে স্থানীয় প্রশাসন।
* বিভিন্ন অফিস প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্সের যেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের আনাগোনা রয়েছে সেখানে সপ্তাহে একবার স্যানিটাইজেশন করতে হবে।
* মল ও বাজারগুলিকে স্যানিটাইজেশন করতে হবে।
* বাজার গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়িতেও যাত্রা করার সময় মাস্ক পরতে হবে।
* দোকান, বাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কাজের জায়গায় একসঙ্গে অনেক মানুষ যাতে না কাজ করে বা একসঙ্গে বেশি মানুষের ভিড় যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* রাজ্য সরকারি অফিসগুলোতে সর্বাধিক ৫০% কর্মী উপস্থিত থাকবে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কর্মীদের উপস্থিত করতে হবে।
* বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে ওয়ার্ক ফর্ম হোমের ব্যবস্থা করতে হবে।
* কর্মস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কর্মীরা মাস্ক পরেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন।
* শপিংমল, মাল্টিপ্লেক্স, হোটেল-রেস্তোরাঁতে আগের মতোই ঢোকা ও বের হবার পথে স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মাল স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক।
* স্টেডিয়ামে, সুইমিংপুল গুলিতে আগের গাইডলাইন মতো সমস্ত বিধি-নিষেধ মানতে হবে।
* এইসব গাইডলাইন না মানলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিধি নিষেধ যদি এখনই কড়াভাবে না মানা হয় তাহলে বিপদ অপেক্ষা করছে বাংলাতেও।

