দেশের ৬ রাজ্যে বেড়েই চলেছে দৈনিক সংক্রমণ, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পাঠানো হল কেন্দ্রীয় দল

আমাদের ভারত, ২ জুন: সারা দেশে কোভিডের দৈনিক সংক্রমণের গ্রাফের রেখা বিগত কয়েকদিন ধরে মোটের ওপর কমতেই দেখা যাচ্ছে। কাজেই প্রায় সব রাজ্যেই শিথিল হয়েছে লকডাউনের কড়া বিধি নিষেধ। কিন্তু ছয়টি রাজ্যে ফের বেড়েছে দৈনিক সংক্রমণের হার। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। তাই কেরলা, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, ওড়িশা, ছত্রিশগড় এবং মণিপুরে কোভিড মোকাবিলায় সহায়তার জন্য উচ্চ স্তরের মাল্টি- ডিসিপ্লিনারি দল পাঠালো কেন্দ্র।

শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোভিড মোকাবিলার ক্ষেত্রে দেখা দেওয়া বিভিন্ন সমস্যা খতিয়ে দেখে তার সমাধানে বিশেষ ভাবে সাহায্য করবে এই দল। সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং প্রশাসনের সহায়ক হিসাবে রাজ্যে কাজ করবে। এই রাজ্যগুলিতে কোভিড কাঠামোয় প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে শয্যা, অক্সিজেন, অ্যাম্বুল্যান্সের যথেষ্ট ব্যবস্থা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখবে এই দল বলে জানানো হয়েছে।

প্রথম ঢেউয়ে কোভিড মোকাবিলার নিরিখে কেরল প্রথম সারিতে থাকলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মহারাষ্ট্রের পর আবার গুরুতর ভাবে প্রভাবিত হয়েছে কেরল। করোনার দৈনিক সংক্রমণের হার বাড়তে থাকা ৬ টি রাজ্যে কেন্দ্রের দ্বারা মোতায়েন এই দুই সদস্যের উচ্চ স্তরের দলে একজন চিকিৎসক এবং একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থাকবেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, দলগুলির মধ্যে মণিপুরের দলকে নেতৃত্ব দেবেন অ্যাডিশনাল ডিডিজি এবং ইএমআর ডিরেক্টর ডঃ এল স্বতিচরণ। অরুণাচল প্রদেশে নেতৃত্ব দেবেন এআইআইএইচ অ্যান্ড পিএইচ-এর অধ্যাপক ডঃ সঞ্জয় সাধুখাঁ। ত্রিপুরার দলের নেতৃত্বে থাকছেন এআইআইএইচ অ্যান্ড পিএইচ-এর ডিরেক্টর ডঃ আরএন সিনহা। কেরলায় থাকছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডঃ রুচি জৈন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডঃ এ দাঁ নেতৃত্ব দেবেন ওড়িশার দলকে এবং রায়পুর এইমস-এর সহকারী অধ্যাপক দিবাকর সাহু থাকছেন ছত্রিশগড়ের দলের নেতৃত্বে।

এদিকে কেন্দ্র ও দেশবাসীর উদ্বেগকে আরও বাড়ালো নতুন রেকর্ড। ইতিমধ্যেই কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ অতিক্রম করল দেশে, যা বিশ্বে কোভিড মৃত্যুতে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
এদিকে, কোভিডে ৪ লাখের বেশি মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে ভারত। সূত্র অনুযায়ী, প্রথম স্থানে আমেরিকা। সেখানে মৃত্যু সংখ্যা ৬ লাখ এবং ৫.২ লাখ মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ব্রাজিল। তবুও স্বস্তির খবর এই যে, জনসংখ্যার নিরিখে ভারতের মৃত্যু সংখ্যা অনেকটাই কম বলে জানা গেছে। কেন্দ্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মোট ৮৫৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে যা আক্রান্তের ১.৩১ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত সংখ্যাও ৪ শতাংশ কমেছে বলেও জানা গেছে। সংক্রমণের এই কমে যাওয়া সংখ্যার সাথে এখন দেশবাসীর কাছে আশার আলো দেখাচ্ছ টিকাকরণের কার্যিকারিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *