পুজোর সময় শীর্ষে পৌঁছবে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ, সঙ্কটে শিশুরা, রিপোর্ট জমা পড়ল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে

আমাদের ভারত, ২৩ আগস্ট: ধীরে ধীরে কমছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। কিন্তু তাতে রেহাই নেই। কারণ যে অসর্তকতার সুযোগে প্রথম ঢেউয়ের পরেই দ্বিতীয় ঢেউ ঢুকেছিল সেই পথেই এবার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা। এমস সহ দেশ-বিদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্ক করেছিল আগেই। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পরল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক অধীনস্থ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের তরফ এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে অক্টোবরের চরম আকার ধারণ করতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ। সতর্ক করা হয়েছে শিশুদের ক্ষেত্রেও।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঢেউতে শিশুদের সংক্রমণে আশঙ্কা বেশি থাকবে। যদি একসঙ্গে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে তার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে বলা হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিকাঠামোর দিকে নজর দিতে।

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে ওই রিপোর্টে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বেশি শিশুরা আক্রান্ত হলে দেশে যে পরিকাঠামো রয়েছে তা কোনো ভাবেই পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে।

তবে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, তৃতীয় ঢেউ এলে তার মোকাবিলা করতে তারা তৈরি। তার জন্য ২৩,১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানিয়েছেন, তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ তৈরি মোদী সরকার। ২৩,১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পেডিয়াট্রিক কেয়ারের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ তৃতীয় ঢেউতে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

এ প্রসঙ্গে একাংশের বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক জায়গাতেই লকডাউন উঠে গিয়েছে, সেটাই চিন্তার কারণ। মানুষ স্বাভাবিক জনজীবন ফিরছেন। যারা করোনার দুটি ডোজ পেয়েছেন, তারা মাস্ক নামিয়ে চলাফেরা করছেন। যেটা একেবারেই উচিত নয়। একই সঙ্গে যারা একটি ডোজ পেয়েছেন তারা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। দেশে ভ্যাকসিনের গতি ও প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে। এখনও পর্যন্ত দেশের ১০ কোটি মানুষ টিকার দুটি ডোজ পেয়েছেন। এখনও একটা বড় অংশের মানুষ টিকাকরণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আর সেই কারণেই ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে ১২ বছরের উর্ধ্বেদের জন্য ভ্যাকসিন এনেছে জাইডাস ক্যাডিলা। ইতিমধ্যেই ডিসিজিআইয়ের অনুমতি পেয়েছেন সেই টিকা। যদিও টিকাকরণ এখনো শুরু হয়নি। তবে সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে যাবে এই বয়সের শিশুদের টিকাকরণ বলে জানিয়েছে সরকার। রিপোর্টে বলা হয়েছে করোনার তৃতীয়ঢেউ থেকে শিশুদের আটকাতে বিশেষত গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির খুব প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *