আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১০ অক্টোবর: দুর্গাপুজো শেষ। এক বোনের বিসর্জন, আর অন্য বোনের আবাহন, এমনটা হয় নাকি? এক বোনকে ছেড়ে অন্য বোনের পুজোটা কি ঠিক? অন্য কোথাও হলেও বিনপুর থানার হাড়দা গ্রামে হয় না। দুই বোন একই সঙ্গে মর্তে এসেছেন, সুতরাং পুজোটাও হবে একই সঙ্গে। কোজাগরীর রাতে দুই বোনকে পাশাপাশি বসিয়ে পুজো করাটাই নিয়ম বিনপুরে। আর সেটাই প্রায় দেড়শো বছর ধরে করে আসছেন গ্রামবাসীরা।

ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর-২ ব্লকের হাড়দা গ্রাম৷ আজ থেকে প্রায় কয়েকশো বছর আগে সুরেন্দ্রনাথ মন্ডলের হাত ধরে হাড়দা’তে শুরু হয় লক্ষ্মী পুজো। সেই গ্রামের মণ্ডলদের পারিবারিক পুজোই এখন গ্রামের সকলের পুজো৷ এমনকী আশপাশের গ্রামের মানুষও মাতেন পুজোর আনন্দে৷ পুজোর সমস্ত খরচ বহন করেন মণ্ডলরাই৷ এই পুজোকে কেন্দ্র করে আগে এক মাস ধরে মেলা বসত৷ এখন তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে পাঁচ দিন।
চিরাচরিত লক্ষ্মী প্রতিমার থেকে এখানকার প্রতিমার আদল খানিকটা আলাদা। একচালার কাঠামোর দুই দিকে দুই বোন–সম্পদের দেবী লক্ষ্মী এবং বিদ্যার দেবী সরস্বতী৷ মাঝখানে স্বয়ং নারায়ণ। আর দুই পাশে থাকে দুই সখি। প্রতিমা স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত৷ আগে প্যান্ডেল বেঁধে পুজো করা হত৷ এখন স্থায়ী মণ্ডপ তৈরি হয়েছে৷ হাড়দার লক্ষ্মী পুজোর মূল অাকর্ষণ হল আতসবাজি পোড়ানো। আতসবাজির এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় পুজোর৷

হাড়দার লক্ষ্মী পুজোর অন্যতম আকর্ষণ অমৃতি বা বিউলির কলাইয়ের জিলিপি৷ পুজোর প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগেই এই জিলিপির দোকান নিলাম হয়৷ মেলায় জিলিপির দোকান কে দিতে পারবেন তা ঠিক করতেই এই নিলামের ব্যবস্থা৷ এমনকী জিলিপি কত টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে তার দাম বেঁধে দেওয়া হয় কমিটির তরফে৷ মেলায় প্রতিদিন প্রায় ১০০ কুইন্টালের উপর জিলিপি বিক্রি হয়৷ জিলিপির জন্যই বহু লোক বহু দূর থেকে মেলায় আসেন। পেল্লাই সাইজ জিলিপির আকারও দর্শনীয়৷

