আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১ আগস্ট: এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধান ও ব্লক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। দলের এক কর্মী সেই আর্থিক দুর্নীতি সমাজ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছেন। সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হাওয়া ওই দুর্নীতি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের মুরারই ২ নম্বর ব্লকের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
মন্টু মোল্লা নামে ওই তৃণমূল কর্মীর সমাজ মাধ্যমে শেয়ার করা পোস্টে লেখা রয়েছে, ‘রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত লাইট চোর। বাইশ লক্ষ টাকা রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান চুরি করে লুকোনোর চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান শিবপ্রাসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ব্লক তৃণমূল নেতা সৌমেন মুখোপাধ্যায়দের দলে না রাখার আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে’।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা মন্টু মোল্লা এই পোস্ট তৃণমূলের বেশ কয়েকটি গ্রুপে শেয়ার করেন। ওই পোস্ট ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও দলের মধ্যে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই বলে দাবি করেন দলের মুরারই ২ নম্বর ব্লক সভাপতি আবতাবুদ্দিন মল্লিক।
সংখ্যালঘু দলের ব্লক সভাপতি মন্টু মোল্লা বলেন, “সমাজ মাধ্যমে ওই পোস্ট পেয়ে দলের গ্রুপে শেয়ার করেছি। অন্য কোনো দলের গ্রুপে শেয়ার করিনি”।
যাদের নামে এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তারা বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর দলের ঊর্দ্ধতন নেতৃত্বকে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান ও ব্লক নেতা।
রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শিবপ্রাসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২২ লক্ষ টাকার দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটা যারা বলছেন তারা দেখে যান। লাইট জ্বলছে, কাজও হচ্ছে। পঞ্চায়েত ও তৃণমূলকে দুর্নাম করতে এবং আমার বদনাম করতেই এই ধরনের নোংরা অভিযোগ করেছেন”।
একই বক্তব্য প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সৌমেন মুখোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, “কাজ হয়েছে কিনা সেটা এলাকায় গিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবে।এই বিষয় ঊর্দ্ধতন নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে”।
যদিও তৃণমূলের সবাই চোর বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, “সময় হলে সব বেড়িয়ে যাবে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর বাড়ি থেকে এত এত টাকা উদ্ধারের পর জেলায় জেলায় সাধারণ তৃণমূল কর্মীরা অস্বস্তিতে পড়েছে।তারা নিজের এলাকায় সেই সব দুর্নীতিগ্রস্থদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি রাখছে। সেটাই দেখা গেল বীরভূমের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে”।

